শেয়ারবাজারে পতন দিয়ে শেষ হলো সপ্তাহ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫৫ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২২

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। সেইসঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যমে চলতি সপ্তাহে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে দরপতন হলো।

এর আগে শেয়ারবাজারে টানা দরপতন দেখা দিলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে প্রতিটি সিকিউরিটিজের ফ্লোর প্রাইস (দামের সর্বনিম্ন সীমা) বেঁধে দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনায় বাজার দামের পরিবর্তে ক্রয় মূল্যকে (কস্ট প্রাইস) বিবেচনায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে।

এতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসেই ঊর্ধ্বমুখী থাকে শেয়ারবাজার। টানা পাঁচ কার্যদিবসের উত্থানে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বাড়ে ৩৩১ পয়েন্ট। আর বাজার মূলধন বাড়ে ২১ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা।

গত সপ্তাহে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হলেও চলতি সপ্তাহ শেয়ারবাজারের জন্য মোটেও ভালো যায়নি। সপ্তাহজুড়েই দরপতন হয়েছে। যদিও সপ্তাহের শুরু হওয়ার আগেই শেয়ারবাজারের জন্য বড় সুখবর দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে আসা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ব্যাংকের এক্সপোজার নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি অন্য কোম্পানির শেয়ার ধারণের হিসাবায়নে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা (এক্সপোজার লিমিট) নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ক্রয়মূল্যকেই ‘বাজারমূল্য’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

শেয়ারবাজারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এমন সুখবর দিলেও পরের দিন শুক্রবার রাতে জ্বালানি তেল কেরোসিন, ডিজেল, অকটেন, পেট্রলের দাম বাড়ায় সরকার। এ পরিস্থিতিতে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস বেশ অস্থিরতার মধ্যদিয়ে পার করে শেয়ারবাজার এবং দরপতন হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের। পরের তিন কার্যদিবসও পতনের মধ্যে থাকে বাজার।

আর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হতেই পতনের আভাস পাওয়া যায়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার কারণে লেনদেন শুরু হতেই ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ১২ পয়েন্ট পড়ে যায়। তবে, লেনদেনের ২০ মিনিটের মাথায় সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও তা বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। বরং শেষদিকে এসে পতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ফলে বড় পতন দিয়েই শেষ হয় দিনের লেনদেন।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে ৯৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬৬টির এবং ১১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩২ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ১৪৮ পয়েন্টে নেমে গেছে।

প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি কমেছে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক। এ সূচকটি আগের দিনের তুলনায় ১৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৯৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

মূল্যসূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৮৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৭৯৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ২১৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ৮৩ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের ২১ কোটি ৫১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ১৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- মালেক স্পিনিং, সি পাল বিচ রিসোর্ট, সোনালী পেপার, গ্রামীণফোন, কপারটেক, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং একমি পেস্টিসাইড।

অপর শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১০৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ২৫৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১৫টির এবং ৮৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এমএএস/এমএএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected]ail.com ঠিকানায়।