‘রাজুর অপরাধ লজ্জাজনক, যা আমাদের বিবেককে তাড়িত করে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪২ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২২

রাজধানীর সবুজবাগে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রাজু আহমেদের অপরাধ লজ্জাজনক, পূর্বপরিকল্পনা প্রসূত, ভয়াবহ, সুস্থির চিন্তাযুক্ত এবং স্পর্শকাতর, যা আমাদের বিবেককে তাড়িত ও ধ্বংস করে। আসামি সুন্দরভাবে অপরাধ করার জন্যই অপ্রাপ্তবয়স্ক ভিকটিমকে ধর্ষণ করেছে। এছাড়া তার অপরাধের কারণেই ভিকটিম ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর পুত্রসন্তান জন্মেছে। আসামি ওই সন্তানের জৈবিক পিতা।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াত আসামি রাজু আহমেদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর্যাবেক্ষণে এসব কথা বলেন বিচারক।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ধর্ষণের শিকার ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়। আইন শিশুকে পিতৃ পরিচয় দিলেও বাবা-মায়ের যত্ন ও ভালোবাসা দিতে অক্ষম। এতে আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা দিলে নবজাতক শিশুটি চিরতরে ওই ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হবে। যার কারণে আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া সমীচীন হবে না মর্মে প্রতীয়মান হয়।

আরও পড়ুন>> ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ধর্ষণ: রেস্টুরেন্ট কর্মী রাজুর যাবজ্জীবন

অভিযোগপত্র পর্যালোচনায় আসামির বয়স ৩০ বছর মর্মে দেখা যায়। আসামি মানসিকভাবে অনগ্রসর নতুবা ১২ বৎসর বয়স্ক ভিকটিমের সঙ্গে কোনোভাবেই শারীরিক সম্পর্ক করতেন না। ভিকটিম পরিবার পুত্রসন্তানটির তত্ত্বাবধান দাবি করেনি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯ (১) ধারায় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান সন্নিবেশিত করা হয়েছে। আইন শিশুকে পিতৃ পরিচয় দিলেও শিশুটির বাবা-মায়ের যত্ন, ভালোবাসা দিতে অক্ষম। এমতাবস্থায় আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা দিলে নবজাতক শিশুটি চিরতরে ওই ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হবে। যার কারণে আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া সমীচীন হবে না মর্মে প্রতীয়মান হয়। এমতাবস্থায় আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯ (১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে মর্মে প্রতীয়মান হয়।

ধর্ষণের অভিযোগে ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় মামলা করেন। মামলার ২০ দিনের মাথায় ২৭ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পুত্রসন্তান জন্ম দেয়। বর্তমানে শিশুটি রাজধানীর আজিমপুরে সোনামণি নিবাসে রয়েছে। তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ মে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। পরে ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এ মামলার বিচার চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে আদালত ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

জেএ/এমএএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।