চার কার্যদিবস পর ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২২ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২২

টানা চার কার্যদিবস দরপতনের পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৪ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচক কিছুটা বেড়েছে। সেই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

এর আগে শেয়ারবাজারে টানা দরপতন দেখা দিলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে প্রতিটি সিকিউরিটিজের ফ্লোর প্রাইস (দামের সর্বনিম্ন সীমা) বেঁধে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা গণনায় বাজার দামের পরিবর্তে ক্রয় মূল্যকে (কস্ট প্রাইস) বিবেচনায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে।

এতে ৩১ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত টানা পাঁচ কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকে। টানা পাঁচ কার্যদিবসের উত্থানে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বাড়ে ৩৩১ পয়েন্ট। আর বাজার মূলধন বাড়ে ২১ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা।

এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে আসা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৪ আগস্ট বিকেলে ব্যাংকের এক্সপোজার নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি অন্য কোম্পানির শেয়ার ধারণের হিসাবায়নে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা (এক্সপোজার লিমিট) নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ক্রয় মূল্যকেই ‘বাজারমূল্য’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

শেয়ারবাজারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এমন সুখবর দিলেও পরের দিন শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাতে জ্বালানি তেল কেরোসিন, ডিজেল, অকটেন, পেট্রলের দাম বাড়ায় সরকার। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসেই দরপতন হয় শেয়ারবাজারে। এতে এক সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমে ১৬৩ পয়েন্ট এবং বাজার মূলধন কমে ১০ হাজার ২১১ কোটি টাকা।

এমন পরিস্থিতিতে রোববার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হতেই ঊর্ধ্বমুখীতার আভাস পাওয়া যায়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার কারণে লেনদেন শুরু হতেই ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ১০ পয়েন্ট পড়ে যায়। লেনদেনের শুরুতে দেখা এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে ১৬৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮২টির এবং ১৩০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ১৭৫ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি বেড়েছে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক। এই সূচকটি আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ আগের দিনের তুলনায় ৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩৫০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

মূল্যসূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬৪৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৫৮৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ৬০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সোনালী পেপারের ৪২ কোটি ৬৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ২৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফরচুন সুজ।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- মালেক স্পিনিং, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, সি পাল বিচ রিসোর্ট, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ এবং ডেল্টা লাইফ।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ২৬৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৮টির এবং ৯৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এমএএস/আরএডি/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।