ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়ম

টিআইবির প্রতিবেদন নিয়ে যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩৭ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০২২

টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের অনিয়ম নিয়ে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বুধবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে টিসিবির এক কোটি পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ ব্যাখ্যা দেন।

গত ১১ আগস্ট ‘টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে টিআইবি জানিয়েছে, টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে প্রকৃত উপকারভোগী অনেকে বাদ পড়েছেন। বাদ পড়াদের ৮০ শতাংশই মনে করেন, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে তারা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। ফ্যামিলি কার্ড পেতে ক্ষেত্রবিশেষে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ঘুস দিতে হয়েছে।

টিসিবির এককোটি পরিবারের মধ্যে ভর্তুকিমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির কার্যক্রম চলছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার সময় ৩৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আড়াই হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছিল। আমরা তৃণমূল সেসব দরিদ্র মানুষ থেকে সাড়ে ৮ লাখ বাদ দিয়ে ৩০ লাখ লোক নেওয়া হয়। শহরগুলো থেকে ৭০ লাখ লোক ঠিক করা হয়েছে। রমজানের মাসে ঈদকে সামনে রেখে সময় কম থাকায় তখন একটু তাড়াহুড়া ছিল। স্থানীয় কমিটি এ তালিকা করেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় করেনি।’

কার্ডধারীরা টিসিবির পণ্য বাজারের চেয়ে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কম দামে পেয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবি যে রিপোর্ট করে সেটা প্রথম দিকের রিপোর্ট, মার্চ ও এপ্রিলের দিকে তারা চেক করেছে। তারা এক কোটি কার্ডধারীর মধ্যে এক হাজার ৪৭ জনকে নিয়েছেন। যেটার পার্সেন্টেজ পয়েন্ট ০১০৪৭ শতাংশ। এরমধ্যে বাদ দেয়া সাড়ে ৮ লাখ মানুষও তো আছে।’

jagonews24

‘আমরা অ্যাপ্রিসিয়েট করি, যে কোন রিপোর্ট যেকোনো তদন্ত- সেটা আমাদের চোখ-কান খুলে দেয়। কিন্তু সেটি যদি যৌক্তিক হয় বা সেটা যথার্থ হয়, তাহলে আমাদের পক্ষে কাজ করতে সুবিধা হয়। তা না হলে মানুষের মধ্যে কনফিউশন সৃষ্টি করে। তারপরও আমরা কাউকে আন্ডারমাইন্ড করতে চাই না। আমাদের দায়িত্ব যে, সত্যিটা কী, কী ঘটনা ঘটেছে সেটা জানানো।’

ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নাম ঢুকাতে অনিয়ম হয়েছে বলে টিআইবির প্রতিবেদনের অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি একেবারে অস্বীকার করতে চাই না যে, (অনিয়ম) হয়নি। কিন্তু রিয়েলিটিটা (বাস্তবতা) কী, আমাদের দেশটা কোথায়? পশ্চিমা বিশ্বের মতো না যে, একটা চাপ দিয়ে বিস্তারিত পাওয়া যাবে। আমাদের নির্ভর করতে হয়েছে কমিটির উপর। হতে পারে ৫ শতাংশ মানুষ নজর ফাঁকি দিয়ে, ভিন্নভাবে ঢুকে গেছে। কিন্তু আমরা ৯৫ শতাংশ মানুষের কাছে তো পৌঁছে গেলাম। আমরা পর্যায়ক্রমে কিন্তু সেগুলোও (অনিয়ম) দেখছি।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘আমরা আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে চাই। এ চলার পথে যদি কোথাও কোথাও কোন কারেকশন দরকার হয়, কোথাও কোন অনিয়ম থাকে- সেটাও আমরা অ্যাড্রেস করব।’

এক কোটির মধ্যে ৮০ শতাংশ কার্ড করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা শহরে এখনও কার্ড দেয়া সম্পন্ন হয়নি। আশা করি এক মাসের মধ্যে শতভাগ হয়ে যাবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, টিসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএমএম/জেএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।