লোকসান কমিয়ে সম্পদ বাড়িয়ে দেখিয়েছে লিবরা ইনফিউশন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৮ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০২২

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত লিবরা ইনফিউশন লিমিটেড আর্থিক প্রতিবেদনে লোকসান কমিয়ে দেখিয়েছে। একই সঙ্গে বাড়িয়ে দেখিয়েছে সম্পদমূল্য। ২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি এমন অনিয়ম করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করে এমন তথ্য দিয়েছে নিরীক্ষক।

নিরীক্ষক জানিয়েছে, লিবরা ইনফিউশন ইউনিট-২ এর স্থায়ী সম্পদের ওপর অবচয় ধার্য করেনি। এই অবচয়ের পরিমাণ ৩ কোটি ৭৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯৮ টাকা। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এই পরিমাণ লোকসান কম দেখিয়েছে। এতে শেয়ারপ্রতি লোকসান কম দেখানো হয়েছে ২৪ টাকা ৮৭ পয়সা।

২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি লোকসান দেখিয়েছে ৭ টাকা ৭৮ পয়সা। সঠিকভাবে অবচয় ধারলে শেয়ারপ্রতি প্রকৃত লোকসান হবে ৩২ টাকা ৬৫ পয়সা। অর্থাৎ কোম্পানিটির যে লোকসান হয়েছে, আর্থিক প্রতিবেদনে তার চার ভাগের একভাগ দেখানো হয়েছে।

অপরদিকে লিবরা ইনফিউশনের কাছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পাওনা রয়েছে ১০৮ কোটি ২২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৬০ টাকা। তবে আর্থিক প্রতিবেদনে এই পাওনা কমিয়ে ৮৪ কোটি ৫৯ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৯ টাকা দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ ২৩ কোটি ৬৩ লাখ ২৪ হাজার ২৮১ টাকার দায় কম দেখানো হয়েছে।

অন্যভাবে বলা যায়, ব্যাংকের পাওনা কম দেখিয়ে লিবরা ইনফিউশন ২৩ কোটি ৬৩ লাখ ২৪ হাজার ২৮১ টাকার সম্পদ বেশি দেখিয়েছে। এতে শেয়ারপ্রতি সম্পদ বেশি দেখানো হয়েছে ১৫৭ টাকা ৩৫ পয়সা।

২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটি একই ধরনের অনিয়ম করে। সে সময় প্রতিষ্ঠানটি ইউনিট-২ এর স্থায়ী সম্পদের ওপর অবচয় ধার্য না করে ৩ কোটি ৭৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯৮ টাকা লোকসান কমিয়ে দেখায়। এর মাধ্যমে ওই হিসাব বছরে লোকসানে থাকার পরও প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক প্রতিবেদনে মুনাফা দেখায়।

একইভাবে সে সময় প্রতিষ্ঠানটির কাছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পাওনা ছিল ১০২ কোটি ২৪ লাখ ৫ হাজার ৩৮৩ টাকা। তবে আর্থিক প্রতিবেদনে এই পাওনা কমিয়ে ৮৩ কোটি ৯৮ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৭ টাকা দেখানো হয়। অর্থাৎ ১৮ কোটি ২৫ লাখ ১৬ হাজার ৯১৬ টাকার দায় কম দেখানো হয়।

১৯৯৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া লিবরা ইনফিউশনের পরিশোধিত মূলধন মাত্র এক কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর শেয়ার সংখ্যা ১৫ লাখ ১ হাজার ৯২০টি। এরমধ্যে ৩৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ শেয়ার আছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৫২ দশমিক ৭৫ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে।

স্বল্প সংখ্যক শেয়ার হওয়ার কারণে কোম্পানিটির শেয়ার দাম আকাশচুম্বী। বর্তমানে কোম্পানিটির একটি শেয়ারের দাম ৮৮৪ টাকা। এক মাস আগে অর্থাৎ ১৮ জুলাই প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল এক হাজার ২ টাকা।

এমএএস/কেএসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।