আইপিও নিয়ে বিএসইসির কমিশনার

ডকুমেন্ট দিয়ে অনেক বিষয় পরিমাপ করা যায় না

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১০ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২২

আইপিও প্রক্রিয়ায় যেসব আইন-কানুন রয়েছে তা সবার মেনে চলা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেছেন, অনেক বিষয় রয়েছে যা ডকুমেন্ট দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। এ বিষয়গুলো ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় দিয়ে বুঝতে হয়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ট্রেনিং একাডেমি আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিংস (আইপিও): প্রসেসেস অ্যান্ড প্রসিডিউরস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) ডিএসই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কমিশন ডকুমেন্ট কেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। এই ডকুমেন্ট তৈরিতে কমিশনের কোনো হাত নেই। কমিশন অডিটরদের অডিট রিপোর্টকে পর্যাপ্ত ধরে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

তিনি বলেন, কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো আইপিও’র দালিলিক প্রমাণের দিকে খেয়াল রাখা। আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কমিশন চারটি বিষয় খেয়াল রাখে। প্রথমটি হলো- ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা কেমন ও তাদের মানসিকতা কী।

‘দ্বিতীয়টি হলো- যেসব বিনিয়োগকারী আইপিওতে বিনিয়োগ করেছে, তাদের বিভিন্ন বিষয় জানা। তৃতীয়টি হলো- কোম্পানিটি কোনো রেগুলেটরি ক্রাইসিস তৈরি করবে কি না সেটি লক্ষ্য রাখা এবং চতুর্থটি হলো- যেসব প্রতিষ্ঠান দেশ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে পারে, এমন প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত না করা।’

বিএসইসির কমিশনার বলেন, কোনো আইপিও আবেদনের যথাযথ মূল্যায়ন যখন আপনাদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত হয়, সেটিই হলো কমিশনের স্বার্থকতা। কমিশনের কাছে যে পরিমাণ আইপিও আবেদন আসে তার অর্ধেকেরও বেশি নাম আপনারা জানতে পারেন না। কারণ সেগুলোর কিছু ত্রুটি বা অসংগতির কারণেই আমাদের টেবিল থেকে ফিরে যায়।

শেখ শামসুদ্দিন বলেন, অনেক সময় অডিটরদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই জিনিসগুলো পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আইপিও প্রসেসটাকে ডিজিটালাইজড করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য বিএসইসি বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নের চেষ্টা করছে। এই ডিজিটালাইজেশন ফিনটেক টেকনোলজি ব্যবহার করে করা হবে। এজন্য সরকারের ইতিবাচক সম্মতি পাওয়া গিয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ফান্ডটি পাওয়া যাবে। বিএসইসি সে ফান্ড নিয়ে পুরো আইপিও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে।

তিনি বলেন, আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন অনেক সময় আইপিও অনুমোদনের জন্য কালক্ষেপণ হয়। এজন্য বিএসইসি ও ডিএসই দায়ী থাকে না। কোম্পানির তথ্য ঘাটতির জন্য মূলত এটি হয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএসই’র ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম. সাইফুর রহমান মজুমদার, বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম এবং ডিএসই’র উপ-মহাব্যবস্থাপক ও ডিএসই ট্রেনিং একাডেমির প্রধান সৈয়দ আল আমিন রহমান৷

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রসপেক্টাস মূল্যায়নে বিএসইসি এবং এক্সচেঞ্জগুলোর ভূমিকা, রেড-হেয়ারিং প্রসপেক্টাসের বিশেষত্ব, প্রসপেক্টাসের প্রয়োজনীয়তা ও বিষয়বস্তু, সংক্ষিপ্ত সংস্করণ প্রসপেক্টাস, মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং আর্থিক বিবৃতি মূল্যায়ন, প্রসপেক্টাসের যাচাই-বাছাই পদ্ধতি, প্রসপেক্টাস ভেটিং পদ্ধতি, আবেদনপত্রের প্রয়োজনীয়তা এবং বিষয়বস্তু, সিকিউরিটিজ বিতরণ প্রক্রিয়া, লক ইন বিধান, ডিফল্ট ও শাস্তিমূলক বিধানের পরিণতি এবং আইপিও অনুমোদন পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম৷

এমএএস/আরএডি/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।