অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অংশীদারত্বে জোর ডিসিসিআই সভাপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:২০ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২৩

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার।

তিনি আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ঋণপত্র নিষ্পত্তিতে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দিতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে ডিসিসিআইয়ের নতুন পরিচালনা পর্ষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

সময়োপযোগী মুদ্রানীতি ঘোষণা করায় বাংলাদেশ ব্যাংককে ধন্যবাদ জানিয়ে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে উল্লেখিত সহায়ক নীতি এবং নির্দেশিকা দেশের বেসরকারি খাতের পাশাপাশি আর্থিক খাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে।

তিনি কৃষি, সিএমএসএমই খাত এবং আমদানি বিকল্প শিল্পের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্প অব্যাহত রাখার উদ্যোগকেও স্বাগত জানান। একই সঙ্গে দেশের সিএমএসএমই খাতের স্বার্থে ঋণ সহায়তা প্রাপ্তিতে এবং ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজীকরণসহ প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বান জানান।

এছাড়া সহজে ঋণ পেতে তরুণ ও উদ্ভাবনী স্টার্টআপগুলোর জন্য ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বেসরকারি খাতের অবদান বাড়াতে এ খাতে ঋণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন ডিসিসিআই সভাপতি। তিনি নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) নিয়ন্ত্রণে সুশাসন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি অভ্যাসগত খেলাপিদের কথা মাথায় রেখে দ্রুত ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াসহ ব্যাংকিং আইনে প্রয়োজনীয় সংস্কারেরও পরামর্শ দেন।

এসময় বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, আমাদের অর্থনীতি বর্তমানে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। সেগুলো হলো- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধি এবং চীনের বর্তমান কোভিড পরিস্থিতি। এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আমাদের অর্থনীতি বেশ স্থিতিশীল।

আগামী দু-এক মাসের মধ্যে এলসির বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এলসি মার্জিন ন্যূনতম করা এবং আরও বেশকিছু নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ানোর বিষয়ে গভর্নর বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু নীতিগত পরিবর্তন এনেছে। যার মধ্যে রেমিটেন্স পাঠাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার শিথিল করা, স্থানীয় ব্যাংক কর্তৃক ফি মওকুফ এবং রেমিটেন্স আহরণে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসকে (এমএফএস) সম্পৃক্ত করা উল্লেখযোগ্য। এর ফলে সামনের দিনগুলোতে রেমিটেন্স প্রবাহ আরও বাড়বে।

এসময় ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এস এম গোলাম ফারুক আলমগীর (আরমান), সহ-সভাপতি মো. জুনায়েদ ইবনে আলীসহ পর্ষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইএআর/এমকেআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।