কৃষকের বাজার: প্রয়োজন সিটি করপোরেশনের পৃথক সেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৩ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২৩

ঢাকায় চালু হয়েছে কৃষকের বাজার। এতে কৃষক ও ভোক্তা উভয়েই উপকৃত হচ্ছেন। ফলে বাজারগুলো এখন টেকসই করার বিকল্প নেই। তাই বাজারগুলোর জন্য সিটি করপোরেশনের একটি পৃথক সেল ঘটনে মত দেন বক্তারা।

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে এক কর্মশালা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন অধিশাখার যুগ্মসচিব নুমেরী জামান। এছাড়া ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার জিয়াউর রহমান সঞ্চালনা করেন। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির প্রজেক্ট ম্যানেজার নাঈমা আকতার।

আরও পড়ুন: কৃষকের বাজারে বিষমুক্ত ফল-শাকসবজি, দাম স্বাভাবিক

কর্মশালায় বক্তারা সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বে ওয়ার্ডভিত্তিক কৃষকের বাজার স্থাপন, কৃষকের বাজারের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নিশ্চিতকরণ, বাজার পরিচালনায় কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, স্থানীয় বাজারের সঙ্গে পণ্যের মূল্যের সমন্বয়, পণ্যের বৈচিত্র্যতা নিশ্চিতকরণ, বাজার কমিটির বাজার পরিচালনার ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি, স্থানীয় পর্যায়ের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বাজার কমিটি তৈরি, সিটি করপোরেশনের একটি পৃথক সেল তৈরি, ট্রাক বা গাড়ি কেনার জন্য কৃষকদের সহজ শর্তে লোন প্রদান, পণ্য পরিবহনের জন্য রেল ও নৌকে সম্পৃক্ত করাসহ বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, আমাদের খাদ্য উৎপাদন থেকে বণ্টন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সমতা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকের বাজার নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালীকরণে ভূমিকা রাখছে। কৃষকের বাজারে সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা থাকবে।

আরও পড়ুন: ইস্কাটনে এলাকাভিত্তিক কৃষকের বাজার চালু

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, কৃষকের বাজারে কৃষক ও ভোক্তা উভয়েই উপকৃত হচ্ছেন। খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজার পরিচালনা দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। বাজারগুলো অস্থায়ীভাবে আয়োজিত হওয়াই প্রয়োজন, নতুবা বাজারের জায়গাগুলো দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ঢাকা ফুড সিস্টেম প্রজেক্টের ফুড সিস্টেম পলিসি ইকোনমিস্ট পেদ্রো আন্দ্রেস গার্জন ডেলভো বলেন, কৃষকের বাজার টেকসই করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা আজকে উপস্থিত আছেন। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় আমরা প্রতিবন্ধকতা জয় করে বাজারগুলো স্থায়ী করতে পারবো।

আরও পড়ুন: ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ৬৪ জেলায় হবে কৃষকের বাজার

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, ঢাকা ফুড সিস্টেম প্রকল্পের আওতায় ১৬টি কৃষকের বাজার স্থাপিত হয়েছে। এলাকাবাসীর পুষ্টির চাহিদা পূরণে আমরা সামান্য হলেও ভূমিকা রাখতে পারছি। জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় বাজারগুলো স্থায়ী করা প্রয়োজন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন অধিশাখার যুগ্মসচিব নুমেরী জামান বলেন, নিরাপদ পণ্যের মূল্য কতটা হওয়া যৌক্তিক, সে ব্যাপারে একটি গবেষণা করে মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তাহলে মূল্য ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। পণ্যের বৈচিত্র্যতা নিশ্চিত না হলে বাজার টেকসই করা কঠিন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শক্রমে বাজারের বর্তমান মডেলটি চলমান থাকতে পারে।

এনএইচ/জেডএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।