রাজস্বের অভাবে স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক হয়নি : অর্থমন্ত্রী


প্রকাশিত: ০৮:৫৭ এএম, ২৫ মে ২০১৬

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, তিন-চার বছর পর অবৈতনিক শিক্ষা স্নাতক পর্যন্ত নিতে হবে। কিন্ত রাজস্বের অভাবে তা করতে পারছি না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক আগেই এটি করার উদ্যোগ নিলেও আমার কারণে হয়নি। মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটা কথা সবসময় বলেন, সবাইকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা হলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না আমাদের। তাই তিনি স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করতে চান।

বুধবার সকালে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে বেলুন উড়িয়ে শিক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সোহরাব হাসান।

শিক্ষা সপ্তাহ চলবে ২৮ মে পর্যন্ত। এ উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশব্যাপী নানা অনুষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে ১০ শতাংশ শিশু এখনও স্কুলে যেতে পারে না। এসব শিশুকে স্কুলগামী করার জন্য আগামী বাজেটে বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছি। মাধ্যমিক শিক্ষার মান এখনও দুর্বল। ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পর্যন্ত আসতে পারে। এটি উন্নত করে ১শ শতাংশ করার বড় দায়িত্ব শিক্ষকদের।

মাধ্যমিক শিক্ষা শতভাগ করার জন্য ৬৩ হাজার শ্রেণিকক্ষ বাড়াতে হবে জানিয়ে মুহিত বলেন, এর জন্য শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে। দেশে এখনও বহু জরাজীর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কেউ এটি গড়ে তুললেও কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন কাজ হয়নি। এদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সমাজে অনেক বঞ্চিত, নিপীড়িত অসহায় আছে। তাদের টেনে তুলতে হবে। যাতে তারাও মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। সবাইকে মনে রাখতে হবে আমি শিক্ষিত হবো, আশপাশের সবাইকে শিক্ষায় ব্রত করবো।

শিক্ষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি জ্ঞান আহরণের পদ্ধতিগুলো শিক্ষার্থীদের শিখিয়ে দিতে হবে। এটি বিশেষ করে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব। কারণ জ্ঞানের সাগরে যাওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই করে দেয়।

এইচএস/এনএফ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :