অবিরাম আন্দোলনের ঘোষণা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৩ এএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭

আমরণ অনশনে নেমেছেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা পাঁচদিনের কর্মসূচি শেষে আমরণ অনশন শুরু করেন তারা। এরই মধ্যে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণসহ ১১ দফা দাবিতে এবার লাগাতর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে বিশ্বাসী এমপিওভুক্ত ৯টি শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক কর্মচারী সংগ্রাম কিমিটির সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ আসাদুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এসব দবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এ কারণে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে সকল এপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী অবিরাম আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে ৯ জানুয়ারি উপজেলা শহর পর্যায়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং ইউএনও’র মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। ১৪ জানুয়ারি জেলা শহরগুলোতে একই কর্মসূচি পালিত ও একইদিন রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হবে। পরে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।

এরপর ২১ থেকে ২৭ জানুয়ারি স্থানীয়ভাবে জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, ম্যানেজিং কমিটি, অভিভাবক, সাংবাদিক, পেশাজীবী ও বুুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। ২২ জানুয়ারি থেকে অবিরাম ধর্মঘটে নামবে সরকার সমর্থিত শিক্ষক-কর্মচারীরা।

শিক্ষক-কর্মচারীদের ১১ দফা দাবিগুলো হচ্ছে : শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ, সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীর আদলে বেসরকারিতেও ৫ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি-পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা প্রদান, বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের অধ্যাপক পর্যন্ত পদোন্নতি, প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেলে বেসরকারি হাইস্কুলের শিক্ষকদের বেতন প্রদান, নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি এবং অর্নাস-মাস্টার্স কোর্সে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এমপিও প্রদান, ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষাখাতে ছয় শতাংশ বরাদ্দ ও মূল বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ, জনবল কাঠামো বৃদ্ধি ও সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে ৩য়-৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের চাকরিবিধি প্রণয়ন, বেসরকরি শিক্ষকদের ৩৫ শতাংশ প্রেষণে নিয়োগ, কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং দ্রুত জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়নকরণ।

সংবাদ সম্মেলেনে এপিওভুক্ত ৯টি সংগঠনের শিক্ষক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ কারিগরি কলেজ শিক্ষক সমিতি উল্লেখযোগ্য।

এমএইচএম/এসএইচএস/আরআইপি