শেষ কর্মদিবসে বদলির রেকর্ড গড়লেন মাউশির ডিজি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৩৯ পিএম, ০৭ জানুয়ারি ২০১৮

শেষ কর্মদিবসে বদলির রেকর্ড গড়লেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান। শেষ দিনে ৫৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করে নিলেন বিদায়। আর তার শেষ কর্মমাসেও প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) ছিল তার শেষ কার্যদিবস। এদিনই এই বদলির রেকর্ড গড়েন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সাধারণত যে কোনো দফতর প্রধান তার শেষ কার্যদিবসে বদলির কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। ডিজির এই বদলিকাণ্ডে প্রশ্ন তুলেছেন মাউশির একাধিক কর্মকর্তা। এতে মাউশির একাধিক পরিচালক আপত্তি তুললেও তা মানেননি ডিজি।

মাউশির ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, মহাপরিচালকের শেষ কার্যদিবস গত বৃহস্পতিবার ৫৪ জনের রেকর্ড বদলি হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ জন কর্মচারী, ২৫ জন বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তার বদলির আদেশ জারি করা হয়। এর আগের দিন ৪ জানুয়ারি বদলি করা হয় মোট ৩৭ জনকে। এর মধ্যে আটজন উপজেলা শিক্ষা অফিসার, ডাটা অ্যান্ট্রি অপারেটর ১৭ জন, গাড়িচালক দুজন, অফিস সহকারী দুজন, পরিছন্নতাকর্মী দুজন, এমএলএসএস পাঁচজন। আর গত ২৭ ডিসেম্বর ১৯ জন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, ২৬ ডিসেম্বর ১৯ জন বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা, ২২ ডিসেম্বর ৬৪ জন কর্মচারী, ২১ ডিসেম্বর ১৯ জন বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা, ১৪ ডিসেম্বর ১৭ জন কর্মচারী, ৭ ডিসেম্বর চারজন কর্মকর্তাসহ আরো বেশকিছু কর্মকর্তার বদলি করা হয়।

অর্থাৎ মহাপরিচালকের শেষ কর্মমাসেও প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তিনি বদলি করেছেন, যা অন্যান্য মাসের তুলনায় রেকর্ড বলে জানিয়েছেন মাউশির কর্মকর্তারা।

শেষ কর্মদিবসের এই বদলি নিয়ে মাউশির একাধিক পরিচালক আপত্তি তুললেও মহাপরিচালক তা মানেননি। ওই দিনের বদলির বিষয়টি যেন কেউ জানতে না পারে সেজন্য বৃহস্পতিবারের বদলির আদেশ ওয়েবসাইটের প্রকাশ করা হয় রোববার। এটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মাউশির একাধিক কর্মকর্তা।

তারা জানান, সাধারণত যে কোনো দফতর প্রধান তার শেষ কার্যদিবসে বদলির কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। যুগ যুগ ধরে এই রেওয়াজ চলে আসছে। কিন্তু তার শেষ কার্যদিবসে সেই রেওয়াজ ভঙ্গ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ছিল তার শেষ কার্যদিবস। ওই দিনে তিনি রেকর্ড পরিমাণ বদলির আদেশের অনুমোদনের পাশাপাশি কেনাকাটারও বেশকিছু ফাইল অনুমোদন করেছেন। এসব বদলি ও কেনাকাটার সঙ্গে অনৈতিক লেনদেন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, বদলিতে মাউশি অধিদফতরের মহাপরিচালক চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। আর উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসার ও কর্মচারীদের বদলিতে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ জাকির হোসেনের স্বাক্ষর থাকলেও তিনি রুটিন ওয়ার্ক করেন। একটি সিন্ডিকেটের অধীনে এই বদলি হয়। এর পেছনে মূল কলকাঠি নাড়েন প্রশাসন শাখার একজন উপ-পরিচালক ও মহাপরিচালকের একজন পিএ।

এছাড়া প্রশাসন শাখার কয়েকজন কর্মচারী এর সঙ্গে জড়িত। আর কলেজ শিক্ষকদের বদলিতে একজন সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

মহাপরিচালকের শেষ কার্যদিবসে রেকর্ড বদলির বিষয়ে অধিদফতরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) শফিকুল ইসলাম সিদ্দিকি বলেন, বদলি কী আমি করেছি। এটা মাউশি করেছে। এখানে আমাদের করার কিছুই নেই।

মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক মো. আবদুল মান্নান বলেন, এ বিষয়টি শুনতে খারাপ লাগে। তারপরও হয়েছে। আমি এটা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

মাউশি মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি অস্বাভাবিক না, স্বাভাবিক কার্যক্রমের মধ্যেই পড়ে। বেশ কিছুদিন যাবত কাউকে বদলি করা হয়নি। তবে শেষ কার্যদিবসে আমি অনেক ফাইলে সই করি, যার একটিতে ছিল বদলির ফাইল।

এমএইচএম/জেডএ/এমআরএম

আপনার মতামত লিখুন :