প্রাথমিকে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৪ এএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৯

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী গত ১৫ দিনে চিহ্নিত কিছু কর্মকর্তাকে বদলির নির্দেশনা দিলেও, তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তার মধ্যে বিধি-বহির্ভূতভাবে ভ্রমণ ভাতা নেয়ার দায়ে চিহ্নিত ১২ কর্মকর্তাকে এবং বুধবার (১৭ এপ্রিল) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে (ডিপিই) সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১২ জনকে বদলির নির্দেশ দেন তিনি।

তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কাউকে বদলি করা হয়নি। এ নির্দেশনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে বির্তক উঠেছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, চার বছর আগের এক তদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে গত ২ এপ্রিল ১২ কর্মকর্তাকে তিনদিনের মধ্যে শাস্তিমূলক বদলির নির্দেশ দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। ওই ১২ কর্মকর্তা ২০১৫ সালে ভুয়া ভ্রমণভাতা গ্রহণ করেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তখন বিষয়টি তদন্ত হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, একই ব্যক্তি একাধিক স্থান থেকে একই তারিখে সম্মানী, টিএ/ডিএ উত্তোলন করেছেন, যা তার প্রাপ্য অর্থের চেয়েও অধিক পরিমাণে বেশি। আবার বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে সব বিমানবন্দরের জন্য একই পরিমাণে টিএ/ডিএ আদায় করেছেন। একইসঙ্গে একই পথে ভ্রমণের প্রত্যেক স্থান থেকে টিএ/ডিএ গ্রহণ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখিত স্থানে না গিয়েও ভাড়া বাবদ অর্থ আদায় করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ওই প্রতিবেদনে এমন ১২ কর্মকর্তাকে এই প্রক্রিয়ায় ভাতা গ্রহণের দায়ে চিহ্নিত করা হয়। তাদের মধ্যে আছেন- তখনকার উপপরিচালক শেখ মো. রায়হান, ইফতেখার হোসেন ভুইয়া, কর্মকর্তা মিজাউল ইসলাম, আতাউর রহমান, সোনিয়া আক্তার, সহকারী পরিচালক রাজা মিয়া, মাহফুজা বেগম, শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুননাহার, মো. মজিবুর রহমান, মাহফুজুর রহমান জুয়েল, সহ-শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।

চার বছর আগের ঘটনা হলেও এতোদিন প্রতিবেদনটি ধামাচাপা ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিবেদন নজরে এলে গত ২ এপ্রিল ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। তার নির্দেশের ১১ কার্যদিবস পেরিয়ে গেলেও কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এদিকে, ডিপিই’র কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রতিমন্ত্রীর কাছে বেশকিছু অভিযোগ আসে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে সহকারি বিদ্যালয়ে বদলিতে বাণিজ্য, ডিপিইতে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি করে অর্থ আদায়, বছরের পর বছর এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে সিন্ডিকেট তৈরি, নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি উঠে আসে।

তার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সরেজমিনে ডিইপি পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী। সেখানে গিয়ে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম ও নানা অভিযোগে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ১২ কর্মকর্তাকে বদলি এবং ২ জনকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। এছাড়াও ঢাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়েও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অফিসে না পাওয়ায় তাকে শোকজের নির্দেশ দেন।

এদিন যে সকল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন-মহাপরিচালকের (এডিজি) পিএস তাপস কুমার, রোকসানা হায়দার, পরিকল্পনা শাখার শাহীন মিয়া, অফিস সহকারী সুজন মিয়া ও মাহমুদা আকতার রেখা।

তবে বৃহস্পতিবার ডিপিইতে গিয়ে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্টদের প্রায় সবাই কর্মস্থলে আছেন। কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে বৃহস্পতিবার ডিপিইতে গিয়ে মহাপরিচালককে পাওয়া যায়নি। পরে প্রশাসন শাখার পরিচালক মো. সাবের হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে চান না বলে জানিয়ে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিপিই’র এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রতিমন্ত্রীর দুটি নির্দেশনাকেই ক্রটিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে ২ এপ্রিলের নির্দেশনার ব্যাপারে বলেন, যে তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশনাটি দেয়া হয়েছে, সেটি নিয়ে বির্তক রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বুধবারের নির্দেশনার ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণে বৃহস্পতিবার একটি বৈঠক হয়েছে। কিন্তু ওই বৈঠকে মহাপরিচালক না থাকায় কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে বৈঠকে উপস্থিত অনেকে প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনে গিয়ে এভাবে নির্দেশনার দেয়ার বিষয়টি নেতিবাচক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। পরবর্তী করণীয় হিসেবে প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও অধিদফতরের মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, আমি নিজ এলাকায় কাজে এসেছি। রোববার মন্ত্রণালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেব। এরপর বিস্তারিত বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।

এমএইচএম/এমএসএইচ/এমএস