শিক্ষকদের কোটি টাকা বোনাসে ক্ষুব্ধ আইডিয়ালের অভিভাবকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২২ পিএম, ০৫ আগস্ট ২০১৯

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকদের ঈদ বোনাস বাবদ কোটি টাকা বরাদ্দ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন অভিভাবকরা। তারা বলছেন, যেখানে স্কুল তহবিলে ঘাটতির অজুহাতে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাড়ানো হচ্ছে সেখানে শিক্ষকদের জন্য উৎসাহ বোনাসে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করা হচ্ছে কেন? এছাড়া ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১১ জন শিক্ষার্থীও ফেল করেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফান্ড থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসাহ বোনাসে এ বিপুল পরিমাণ টাকা দেয়ার প্রতিবাদে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছেন অভিভাবকরা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল হলেও শিক্ষকদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার পরিবর্তে তাদের প্রণোদনা দিয়ে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

আরও বলা হয়, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩টি শাখায় বর্তমানে প্রায় ৮৫০ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। তাদের প্রত্যেককে বেসিক বেতনের সমান উৎসাহ বোনাস দিতে ১ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ স্কুল তহবিলে ঘাটতির অজুহাতে আগামী বছর থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের টিউশন ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এসব কারণে শিক্ষার মান উন্নয়নের পরিবর্তে অবনতি ঘটেছে।

আয়-ব্যয়ের হিসাব ও স্বচ্ছতার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিদের্শনা প্রদানের দাবিও জানান অভিভাবকরা।

এ বিষয়ে অভিভাবক ফোরামের আহ্বায়ক জিয়াউল কবির দুলু বলেন, শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছর বার্ষিক পরীক্ষার ফল খারাপ হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ কেন হচ্ছে -এ বিষয়ে শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় না এনে তাদের আরও প্রণোদনা প্রদান করছে কর্তৃপক্ষ। যার প্রভাব আমাদের সন্তানদের ওপর পড়ছে।

দ্রুত এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় হবে সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা দেয়ার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ ড. শাহানারা বেগম বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা হিসেবে ঈদ বোনাস প্রদান করা হচ্ছে। বরং এটি পরিশোধ না করলে ন্যায় হতো না। তবে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা বা কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে ছাড় দেয়া হয় না।

এমএইচএম/আরএস/এমকেএইচ