মেডিকেল-বুয়েট-চুয়েট পরীক্ষা পর পর, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪০ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
ফাইল ছবি

মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যাল (বুয়েট) এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পরপর হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে তারা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা এগুনো বা পেছানোর দাবি তুলেছেন।

জানা যায়, আগে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ছিল ৪ অক্টোবর। বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ছিল ৫ অক্টোবর। যেহেতু মেডিকেলের পরীক্ষা সারাদেশের একাধিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়, তাই ওই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বুয়েটের পরীক্ষায় অংশ নেয়া একজন শিক্ষার্থীর জন্য খুবই কঠিন ছিল। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রথমে ভর্তি পরীক্ষা না পেছানোর সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বুয়েট কর্তৃপক্ষ তাদের পরীক্ষা পিছিয়ে ১৪ অক্টোবর নির্ধারণ করে।

কিন্তু হঠাৎ করেই আবার দুর্গাপূজার কারণে মেডিকেল পরীক্ষা পিছিয়ে ১১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। ১২ অক্টোবর চুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য এই তিনটি পরীক্ষাই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কারও বাড়ি রংপুর হলে সে রংপুরে মেডিকেল, পরদিন আবার চট্টগ্রামে চুয়েটে পরীক্ষা দিয়ে ঢাকায় এসে বুয়েটে পরীক্ষা দেয়া অসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।

ইতোমধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়েরই একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক পূর্বনির্ধারিত ৪ অক্টোবরই মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

সেখানে বলা হয়েছে, আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বী। অন্যান্য সবার মতো আমরাও দুর্গাপূজা করি। পরীক্ষা পেছানোর জন্য দুর্গাপূজার কারণ দেখানো হয়েছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পূজা শুরু হবে ৫ অক্টোবর থেকে এবং চলবে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। সেক্ষেত্রে আমাদের সন্তানরা ৪ অক্টোবর পরীক্ষা দিতে পারলেই বরং মনের আনন্দে পূজা করতে পারতো। সেই সঙ্গে আমরা অভিভাবকরাও নিশ্চিন্ত হতে পারতাম।

এখন বিজয়া দশমীর দু’দিন পরই মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা। এই পরিস্থিতিতে পূজার আনন্দ বা ধর্মীয় রীতিনীতি কতটুকু পালন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা?

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় চান্স পাওয়া এমনিতেই অনেক কঠিন ব্যাপার। এক্ষেত্রে পূর্ব প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিষয়টি আরও জটিল হবে। সবদিক বিবেচনা করে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ৪ অক্টোবরই বহাল রাখা যুক্তিযুক্ত বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

অজয় কুমার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিজয়া দশমীর দু’দিন পরই যেখানে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঝুলছে, সে পরিস্থিতিতে তাদের পূজার আনন্দই বা কতটুকু স্পর্শ করবে আর ধর্মীয় রীতিনীতিই বা কতটুকু পালন করতে পারব? কেননা এ সময় বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান পালন করতে হয়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় চান্স পাওয়া এমনিতেই অনেক কঠিন ব্যাপার।

ভর্তিচ্ছুদের এমন সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে বুয়েটের ডেপুটি রেজিস্ট্রার কামাল আহমেদ বলেন, ‘অভিভাবক ও শিক্ষাথীরা যদি আবেদন জানায় তাহলে বুয়েট কর্তৃপক্ষ হয়তো এ বিষয়ে পুনরায় সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কারণ, মানুষের জন্যই তো সব কিছু। মানুষের সমস্যা হলে আমরা বিষয়টি দেখব।

এমএইচএম/জেএইচ/এমএস