বশেমুরবিপ্রবির পরিস্থিতিতে তদন্ত কমিটি হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২৬ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) এক ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।

শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী শনিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইনকে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছেন দেয়া হয়েছে-যা আগামী কাল কমিটি গঠন করা হবে।

বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানা গেছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গত ছয় মাসে সাত শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বহিষ্কৃত ওই শিক্ষার্থীদের অপরাধ উপাচার্য ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের অনিয়মের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন তারা। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে শিক্ষকদের নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়ায় আইন বিভাগের ছাত্রী ও সাংবাদিক ফাতেমা তুজ জিনিয়াকে বহিষ্কার করা হয়।

বহিষ্কারের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে উপাচার্য বলেছেন, জিনিয়া তার ফেসবুক আইডি হ্যাক করেছেন। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ফেসবুক ও ই-মেইল আইডি হ্যাক করেছেন। তিনি ওয়েবসাইট হ্যাক করে ভর্তি পরীক্ষা বানচালের ষড়যন্ত্র করেছেন।

তবে জিনিয়া বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করার কারণেই তাকে উপাচার্যের রোষাণলে পড়তে হয়েছে।

এ ঘটনার পর জিনিয়াকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা আন্দোলন শুরু করেন। সাংবাদিকদের আন্দোলনের মুখে গত বুধবার জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর ওইদিন রাত থেকে অধ্যাপক ড. খন্দকার নাসির উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

এমএইচএম/এমআরএম/এমকেএইচ