অবশেষে ছাপানো হচ্ছে প্রাথমিকের সাড়ে ১০ কোটি বই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৪ পিএম, ০৯ অক্টোবর ২০১৯

অবশেষে প্রাথমিকের সাড়ে ১০ কোটি বিনামূল্যের বই ছাপার কাজ শুরু হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান এবং মুদ্রণ শিল্প সমিতির নেতারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা জানান, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রথমিকের প্রায় সাড়ে ১০ কোটি বিনামূল্যের বই ছাপার কার্যাদেশ পাওয়ার দেড় মাস পরও ছাপাতে পারছিল না মুদ্রণের কাজ পাওয়া ৪৩ প্রতিষ্ঠান। কাগজ পরিদর্শনের জন্য এনসিটিবি নিযুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং পরিদর্শন টিম, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে কাগজের ছাড়পত্র দিতে অহেতুক হয়রানি, অনৈতিক লেনদেনের দাবির কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়। এনসিটিবি ও মুদ্রণ শিল্প সমিতিতে এ ব্যাপারে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জমা দেয় সংশ্লিষ্টরা। ফলে সময় মতো প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে বই প্রাপ্তি নিয়ে শংকা দেখা দেয়।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান, সমিতির লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি এবং অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফর (ডিপিই), এনসিটিবি, মুদ্রণ সমিতি, পরিদর্শন টিম এবং কাগজের ছাড়পত্র মনিটরিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ জটিলতার অবসান হয়েছে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক এবং প্রাথমিকের জন্য সাড়ে ১০ কোটি বই ছাপা হবে এবার। বই ছাপার কার্যাদেশ দেয়া হয় গত ২০ আগস্ট। চুক্তি অনুযায়ী ২০ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ বই ছাপিয়ে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে। তবে কার্যাদেশ প্রাপ্তির পরবর্তী ৪৯ দিনের মধ্যে মোট বইয়ের অর্ধেক সরবরাহ করার শর্ত ছিল। কিন্তু গত ৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিকের কিছু বই ছাপা হলেও প্রাথমিকের একটি বইও ছাপা হয়নি।

এ নিয়ে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষামন্ত্রণালয় এবং ডিপিই বার বার তাগিদ দিলেও এনসিটিবি অনেকটাই নিশ্চুপ ছিল। কাগজ পরিদর্শনের জন্য এনসিটিবি নিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে মন্ত্রণালয় ও ডিপিইর কর্মকর্তারা। এ ছাড়া এনসিটিবির পরিদর্শন টিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয় মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো।

মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি সূত্র জানায়, আগামী শিক্ষাবর্ষে বিনামূল্যের ৩৫ কোটি পাঠ্যবই ছাপার আনুষঙ্গিক সব সরঞ্জাম পরিদর্শন, মনিটরিং এবং মান যাচাই করে ছাড়পত্র দিতে বসু বাইন্ডার্স এবং কন্টিনেন্টাল ইন্সপেকশন বিডিকে নিয়োগ দেয়া হয়। প্রাথমিকের দায়িত্ব হচ্ছে কন্টিনেন্টাল ইন্সপেকশন বিডির আর মাধ্যমিকের ছাড়পত্র দেবে বসু বাইন্ডার্সর।

যদিও এ দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গত বছরই নানা অভিযোগ ছিল। এনসিটিবির শীর্ষ এক কর্মকর্তার পছন্দের কারণে এবারও তাদেরকেই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কন্টিনেন্টালের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট পেপার মিল থেকে কাগজ কিনতে বাধ্য করা, ছাড়পত্রের নামে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান থেকে উৎকোচ নেয়াসহ নানা অভিযোগ উঠে। অনৈতিক লেনদেন না করলে নানা অযুহাতে ছাড়পত্র আটকে দেয়র অভিযোগ রয়েছে। এতেই প্রাথমিকের সাড়ে ১০ কোটির বেশি বই ছাপার কাজ আটকে যায়।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র বলেন, পরিদর্শক প্রতিষ্ঠানকে নিয়েই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। সেটি কাটিয়ে উঠেছি। এখন সময়মত বই প্রপ্তিতে গুরুত্ব দিচ্ছি। অভিযোগ সম্পর্কে পরে তদন্ত হতে পারে।

মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল আহমেদ বলেন, সমস্যার আপাতত সমাধান হয়েছে। এ নিয়ে চার পক্ষের বৈঠকে দ্রুত বই সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রাথমিকের মন্ত্রী ও সচিব। সেটিকে সম্মান জানিয়ে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ শুরু করেছে।

এমএইচএম/এএইচ/এমকেএইচ