অভিযোগবিহীন এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:১২ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০১৯

রাজধানীসহ সারাদেশে অনুষ্ঠিত সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়া সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

তিনি বলেন, ‘নতুন পদ্ধতির প্রশ্নপত্র (দুই পৃষ্ঠায় প্রশ্নপত্র ও উত্তর) নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় থাকলেও দেশের কোনো কেন্দ্র থেকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। গতরাত থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিজস্ব সোর্স, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে কোথাও প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ও নকল প্রশ্নপত্রের কথা শোনা যায় কি না সে সম্পর্কে সর্তক দৃষ্টি ও খোঁজখবর রাখছিলাম। কিন্তু কোথাও প্রশ্নপত্র ফাঁস বা নকল প্রশ্নপত্র পাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।’

এমবিবিএস প্রথম বর্ষ ভর্তির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। 

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ইউসুফ হারুন বলেছেন, নতুন প্রশ্নে সারাদেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এবার ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ প্রশ্ন নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ নেই।

প্রশ্নপত্র পরিবর্তনের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আগে এমবিবিএস পরীক্ষার জন্য প্রশ্নপত্রের পাঁচটি সেট তৈরি করা হতো। এতে করে পরীক্ষার্থীর পাশের জনের সঙ্গে কথা বলে উত্তর পাওয়ার সুযোগ থাকত। তাই তারা যাতে এটা না করতে পারে সেজন্য এবার একটি সেটে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। তবে প্রশ্নে বিন্যাস আলাদা করা হয়েছে। অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা কেন্দ্রে নতুন প্রশ্ন বিষয়ে আমরা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি, এ বিষয়ে কারো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, গতবছর আমরা এ পদ্ধতিটি খুঁজে পেয়েছিলাম। কিন্ত সে বছর ৮০ হাজার পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করায় আমরা সেই ঝুঁকিটা নিইনি। তবে ডেন্টাল কলেজের অ্যাডমিশন (ভর্তি) পরীক্ষা, আইএসটি ও ম্যাবসের ভর্তি পরীক্ষায় এটি প্রয়োগ করা হয়েছে। পরীক্ষার পর আমরা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে এটি নিয়ে কথা বলেছি, কারো কোনো সমস্যা হয়েছে কি না জানতে চেয়েছি। তবে তাদের কেউই এ বিষয়ে অভিযোগ করেনি।’

এ পর্যন্ত সারাদেশে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ইউসুফ হারুন বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে আমরা নতুন পদ্ধতিতে ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা শেষ করার জন্য কাজ করেছি। পরীক্ষা মনিটরিংয়ে বিভিন্ন পেশার মানুষদের নিয়ে একটি ওভার সাইড কমিটি রয়েছে। যারা প্রশ্নফাঁস করে তারা বুঝে গেছে এ ধরনের কাজে সফল হওয়া যাবে না। তাই এ বিষয়ে তারা আর মাথা ঘামায় না। সারাদেশের সকল স্থানে খবর নেয়া হয়েছে, কোথাও অপ্রীতিকর খবর পাওয়া যায়নি।’

পরীক্ষা শুরুর একমাস আগে থেকে সকল মেডিকেল ভর্তি কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। থ্রি ডক্টরস কোচি সেন্টার থেকে যে সরকারি ডাক্তারকে আটক করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সকল আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

দেশের ১৯টি কেন্দ্রের (১৮টি মেডিকেল কলেজ ও একটি ডেন্টাল কলেজ) ৩২টি ভেন্যুতে ৮৯৬টি হলে একযোগে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারদেশে ৩৬টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ১০ হাজার ২৩৯টি আসনে মোট ৭২ হাজার ৯২৮ জন আবেদনকারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৪ হাজার ৮০৯ জন পুরুষ ও ৩৮ হাাজর ১১৯ জন নারী রয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৮০০ এবং ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেলের ২১৮ জন আবেদনকারী পরীক্ষায় নেন।

এদের মধ্যে ঢাকায় ৩৫ হাজার ৯৮৫ জন আবেদনকারী রয়েছেন। এর বাইরে ছয়টি আর্মি মেডিকেল কলেজে ৩৭৫টি আসন রয়েছে।

১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যায় ২০, রসায়নে ২৫, জীববিজ্ঞানে ৩০, ইংরেজিতে ১৫ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাধারণ জ্ঞানে ১০ নম্বর থাকে। পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তরের খাতাগুলো অধিদফতরে আসতে শুরু করেছে। ঢাকার বাইরে থেকেও পুলিশি পাহারায় যানবাহনে (এসব যানবাহন স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বিশেষ ইলেকট্রনিক মেশিনের মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে) প্রশ্ন ও উত্তরপত্র নিয়ে আসা হবে।

এবার ফলাফল প্রকাশ অন্যান্যবারের মতো দুদিনে না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এবার দ্বিগুণ সময় লাগবে বলে জানা গেছে।

এমইউ/এমএইচএম/এসআর/এমএস