জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা আয়োজনে শিক্ষামন্ত্রীর ২০ নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১৮ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৯

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে আয়োজনে ২০ নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। পরীক্ষার সময় দায়িত্বরত শিক্ষকদের বে-আইনি কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ২২ দিন কোচিং সেন্টার বন্ধসহ পরীক্ষা আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কড়া গোয়েন্দা নজরদারি বসাতে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

রোববার জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা-২০১৯ উপলক্ষে জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কমিটির সভায় পরীক্ষার সময় দায়িত্ব পালনকারীদের প্রতি এসব নির্দেশনা দেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভা সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা কমিটির সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সকলের প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা হবে। গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আমরা নকলমুক্ত আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছি, এবারও সেই কাজটি জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় করতে হবে। কোনোভাবেই প্রশ্নফাঁসকারীদের সুযোগ দেয়া যাবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদাবি করতে হবে।

সভায় সকলের পরামর্শ ও আলোচনার পর শিক্ষামন্ত্রী ২০টি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। সেগুলো হচ্ছে-
১. জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর মোট ২২ দিন দেশের সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে হবে।
২. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত গুজব কিংবা এ কাজে তৎপর চক্রগুলোর কার্যক্রমের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নজরদারি করবে।
৩. প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষার্থীদের কাছে উত্তর সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
৪. জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ করতে হবে। যদি কেউ দেরি করে প্রবেশ করে তবে তার রোল নম্বর, প্রবেশের সময়, বিলম্ব হওয়ার কারণ একটি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে পরীক্ষা শেষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
৫. কেন্দ্রসচিব ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে অন্য কেউ মোবাইলফোন বা অননুমোদিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবে না। ছবি তোলা ও ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় না এমন মোবাইলসেট কেন্দ্রসচিবকে ব্যবহার করতে হবে। এ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
৬. পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্য কেউ মোবাইল, ইলেকট্রিক ডিভাইজ আনতে পারবে না।
৭. জেলার ক্ষেত্রে ট্রেজারি এবং উপজেলার ক্ষেত্রে উপজেলাস্থ থানা লকারে প্রশ্নপত্রের ট্রাংক সংরক্ষণ করতে হবে।
৮. ট্রেজারিতে রক্ষিত প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর তিনদিন পূর্বে দিনভিত্তিক ও সেটভিত্তিক সর্টিং করে সিকিউরিটি খামে সংরক্ষণ করতে হবে।
৯. জেলা ট্রেজারিতে জেলা প্রশাসক মনোনীত একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্র সর্টিং করতে হবে। বিষয় ও দিনভিত্তিক একই সেটের সকল প্রশ্ন একটি মাস্টার সিকিউরিটি খামে প্যাকেটজাত করতে হবে। বোর্ডগুলো যথাসময়ে মাস্টার সিকিউরিটি খামে জেলা প্রশাসকদের সরবরাহ করবে।
১০. ট্রেজারি-থানা থেকে প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও পরিবহনকাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা, শিক্ষক, কর্মচারীরা কোনো ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। প্রশ্নপত্র বহন কাজে কালো কাঁচযুক্ত মাইক্রোবাস বা এ-রূপ কোনো যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না।
১১. প্রত্যেক কেন্দ্রের জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা কর্মকর্তা (ট্যাগ কর্মকর্তা) নিয়োগ দিতে হবে। তিনি ট্রেজারি, থানা হেফাজত থেকে কেন্দ্রসচিবসহ প্রশ্ন বের করে পুলিশ প্রহরায় বোর্ডের সরবরাহকৃত সকল সেটের প্রশ্ন কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন।
১২. ট্রেজারি বা থানা থেকে প্রশ্ন কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য দূরত্ব অনুযায়ী বেশি সময় আগে প্রশ্ন না এনে প্রয়োজনীয় সময় নির্ধারণ করে প্রশ্নপত্র আনতে হবে।
১৩. কোনো প্রতিষ্ঠানপ্রধান, শিক্ষক কোনোভাবে পরীক্ষায় বে-আইনি কাজ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষাকেন্দ্র বাতিল করা হবে। দোষী ব্যক্তি সরকারি প্রতিষ্ঠানের হলে তাকে সাময়িক বরখান্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বেসরকারি শিক্ষক হলে তার এমপিও স্থগিত করে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার জন্য ম্যানেজিং কমিটিকে সুপারিশ করতে হবে।
১৪. পরীক্ষার সময় কোনো মোবাইল নম্বরে একাধিকবার একই অংকের টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্টকে নিকটস্থ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে।
১৫. প্রশ্ন ছাপার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখতে হবে।
১৬. পরীক্ষা শুরু ২৫ মিনিট আগে প্রশ্নের সেট কোড ঘোষণা করা হবে। সে অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্টেট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কেন্দ্রসচিব ও পুলিশ কর্মকর্তার স্বাক্ষরে প্রশ্নপত্রর প্যাকেট খুলতে হবে।
১৭. পরীক্ষা চলাকালীন এবং পরীক্ষার আগে-পরে কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি/শিক্ষক ব্যতীত অন্যদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। যদি কেউ প্রবেশ করেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া পরীক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে একটি কন্ট্রোল রুম খোলাসহ ২০টি নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সকলের সহযোগিতায় সুষ্ঠু ও নকলমুক্তভাবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মতো জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষাটি সম্পন্ন করা হবে। এ জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের মধ্যদিয়ে এ পরীক্ষার আয়োজন করা হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনে আমরা আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছি। যতদিন পর্যন্ত কোচিং বাণিজ্যকে লাগামের মধ্যে আনা সম্ভব না হবে ততদিন পর্যন্ত পরীক্ষার আগে কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখা হবে। তবে কোচিং সেন্টারের লাগাম টানতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেউ যেন প্রশ্ন পাওয়ার পেছনে না দৌড়ান, এমন চাহিদা যেন নিজেদের মধ্যে তৈরিও না করেন। পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে যেন তারা পরীক্ষা দিতে যান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুনশি সাহাবউদ্দিন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডর চেয়ারম্যান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা প্রমুখ।

এমএইচএম/বিএ/জেআইএম