মর্যাদা আদায়ে আন্দোলনে নামছেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৪ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৯

সারাদেশের ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় তিন লক্ষাধিক সহকারী শিক্ষক কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন। আগামীকাল (সোমবার) থেকে বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করবেন তারা। গ্রেড পরিবর্তন করে মর্যাদা আদায়ের দাবিতে শিক্ষকদের এ আন্দোলন কর্মসূচি পালিত হবে।

ঘোষণা অনুযায়ী প্রথম দিন (১৪ অক্টোবর) এক ঘণ্টা, পরের দিন (১৫ অক্টোবর) দুই ঘণ্টা, তৃতীয় দিন (১৬ অক্টোবর) অর্ধ-দিবস এবং শেষদিন (১৭ অক্টোবর) পূর্ণ-দিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে। এছাড়া আগামী ২৩ অক্টোবর সারাদেশের সহকারী শিক্ষকরা ঢাকায় মহাসমাবেশ করবেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সব কয়টি সংগঠনের (১৪টি) সমন্বয়ে সদ্য গঠিত প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ নেতারা এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী কর্মসূচি পালিত হবে।

ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র রবিউল হাসান দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে যথাযথভবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।

এদিকে আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে সারাদেশে একযোগে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) এবং ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হবে। সমাপনী পরীক্ষার মাত্র ৩০ দিন আগে এ ধরনের কর্মসূচি ঘিরে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের উদ্বেগ সম্পর্কে জানতে চাইলে শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, গত ছয় বছর ধরে আমরা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দাবি জানিয়ে আসছি। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সাবেক সচিব ও ডিপিই মহাপরিচালকরা দাবি পূরণের আশ্বাস দিলেও তা কার্যকর হয়নি।

তিনি বলেন, সহকারী শিক্ষকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আজই সরকার থেকে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকদের বেতনের এক ধাপ নিচে প্রদানের ঘোষণা ও আদেশ দিলেই আমরা সকল কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফিরে যাব।

প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের একাধিক নেতা এবং পরিষদের মুখপাত্র রবিউল হাসান বলেন, সারাদেশের জেলায় জেলায় সহকারী শিক্ষক নেতাদের এরই মধ্যে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের কাছে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মবিরতি পালনের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

কর্মবিরতির যৌক্তিকতা ও দাবি সম্পর্কে প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন কাঠামোতে বৈষম্য বিরাজ করছে। বিশেষ করে সরকারি অন্যান্য বিভাগের কর্মচারীদের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন স্কেলের ব্যাপক ব্যবধান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিপিএড কোর্স সম্পন্ন করা একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১২তম গ্রেডে, একজন সহকারী শিক্ষক ১৪তম গ্রেডে বেতন পান। অথচ অন্যান্য সরকারি বিভাগের চেয়ে কম শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের তুলনায় কয়েক গ্রেড উপরের স্কেলে বেতন পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, শুধু সরকারের অন্যান্য বিভাগের সঙ্গেই নয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতন ও পদমর্যাদাগত বৈষম্য বিরাজ করছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। আর সহকারী শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১৪তম গ্রেডে। ১৬ বছর চাকরির পর একজন প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের বেতন-ভাতার ব্যবধান হবে ২০ হাজার টাকা।

শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন স্কেল নির্ধারণ এবং প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন স্কেল নির্ধারণের দাবিতে মূলত এ কর্মবিরতি পালনে শিক্ষকরা বাধ্য হচ্ছেন।

এমএইচএম/বিএ/জেআইএম