সভাপতির অনিয়মে আন্দোলনে বোরহানউদ্দিন কলেজের শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৪ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০১৯

গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক হারুনর রশিদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে রাজধানীর শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজের শিক্ষকরা আন্দোলনে নেমেছেন।

রোববার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টার পর থেকে তারা কলেজের গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে ক্লাস নেয়া থেকে বিরত রয়েছেন। এর আগে শনিবার রাতে সভাপতিকে ঘেরাও করেন শিক্ষকরা। গভর্নিং বডির বৈঠক চলাকালে শিক্ষকরা ঘেরাও করলে বৈঠক পণ্ড হয়ে যায়। ওই বৈঠক আবার আজ সকাল ১০টায় শুরুর কথা ছিল। কিন্তু শিক্ষক আন্দোলনের মুখে এখন পর্যন্ত বৈঠক শুরু করা যায়নি। আন্দোলন থেকে শিক্ষকরা সভাপতির পদত্যাগ দাবি তুলেছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকদের একজন ইংরেজি বিভাগের সাবেক প্রধান আসমা পারভীন। তিনি বলেন, ‘এই সভাপতির কাছে কলেজের সম্পদ নিরাপদ নয়। তিনি শিক্ষকদের অশোভন, আপত্তিজনক ও মানহানিকর ভাষায় গালাগাল করেন। কলেজে আসন কেবল খাওয়ার জন্য ও বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য।’

College-(1)

কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘সভাপতি একজন শিক্ষক। কিন্তু তার কর্মকাণ্ড শিক্ষকসুলভ নয়। সব শিক্ষক ও কর্মচারী তার পদত্যাগ চায়। সভাপতির পদত্যাগ বা অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারীর আন্দোলন করবেন।’

কলেজের শিক্ষকদের অভিযোগ, সভাপতি হিসেবে যোগদানের পর থেকে নানা কায়দায় ও ফন্দি করে টাকা লুটপাট করছিলেন অধ্যাপক হারুনর রশিদ। প্রায় ১৭ কোটি টাকায় কেরানীগঞ্জে জমি কেনেন। এ বিষয়ে শিক্ষকদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জমি কেনায় জাল দলিলের অভিযোগ আছে। কোনো কোনো দলিলে প্রদেয় অর্থের চেয়ে বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। এভাবে জমি কেনার নামে অর্থ লুট করা হয়েছে।

কলেজ সূত্র জানায়, সরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভেঙে কলেজে ৪৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন না করে ১৫-২০ দিন পর ফল প্রকাশ করা হয়। ফলে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হারুনর রশিদ প্রতি মাসে গড়ে ৬৫ হাজার টাকা কলেজ থেকে নেন। মাসে ২০-২২ দিন কলেজে ভুরিভোজ করেন। নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে বেহিসাবে ব্যয়ের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

College-(3)

এসব কারণে কলেজ শিক্ষকরা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর মধ্যে মিথ্যা অভিযোগে শনিবার স্থায়ী অধ্যক্ষকে বরখাস্ত করে নিজের লুটপাটের এক সাক্ষীকে অধ্যক্ষকে বসানোর উদ্যোগ নিলে শিক্ষকরা সভাপতিকে অন্য সদস্যদেরসহ ঘেরাও করেন। কিন্তু তারপরও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষকরা বৈঠকে ঢুকে পড়েন। শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। একপর্যায়ে অন্য সদস্যদের হস্তক্ষেপে সভাপতি মুক্ত হন। পরে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত বৈঠক মুলতবি করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষকরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করছেন। তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধির যোগসাজশে এত অপকর্ম হয়েছে যে, তারা আর এই সভাপতিকে মেনে নিতে পারছেন না।’

অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য পেতে মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে মিটিংয়ে আছি, এখন কথা বলতে পারছি না বলে ফোন রেখে দেন সভাপতি হারুনর রশিদ।

এমএইচএম/এসআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]