ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪০ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফৌজিয়ার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়া, মডেল টেস্টের নামে বাড়তি অর্থ আদায়, ভর্তি বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলা হয়। তবে সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন অধ্যাপক ফৌজিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রমি হাওলাদার রানা, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ইসরাত জাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক রোকন উদ-দৌলা।

লিখিত ব্যক্তব্যে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক ফোরামের সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস বলেন, অধ্যক্ষ নিজ ক্ষমতাবলে দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে অতিরিক্ত ভর্তি করিয়েছেন। গভর্নিং বডির অনুমোদন ছাড়া অনলাইনে নির্দিষ্ট একদিনের সময়ে ভর্তি করান। এ সময়ের মধ্যে যারা ভর্তি হতে পারেনি তাদের তালিকা থেকে বাদ করে দেয়া হয়েছে। সেসব শূন্য আসন ঘোষণা করে অবৈধ ভর্তি করানো হবে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অনলাইনে ভর্তি বন্ধের দাবি জানান তিনি।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী অতিরিক্ত বেতন ও বোর্ড ফি আদায় করার নিয়ম না থাকলেও এ প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ নিজ স্বাক্ষরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা, পিকনিক বাবদ ১ হাজার টাকা, ব্যবহারিক বাবদ ৬০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এসব অর্থ অধ্যক্ষসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভাগাভাগি করে নিচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

অধ্যক্ষের এ কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেয়ার দাবি তুলে অভিভাবকরা বলেন, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার আগে মডেল টেস্টের নামে প্রায় তিন কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে প্রতিষ্ঠান ফান্ড থেকে ব্যয় করা হচ্ছে। এতে কেনাকাটায় দুর্নীতি ও অনিয়ম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষের সব স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি কমপক্ষে ৭ দিন শিক্ষার্থী ভর্তির সময়সীমা নির্ধারণের দাবি জানান।

সব অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক ফৌজিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি গত তিন মাস আগে এ প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছি। সরকারি বেতন-ভাতা ছাড়া বাড়তি কোনো অর্থ আদায় করিনি। তবে প্রতিষ্ঠানের বাড়তি দায়িত্ব পালন বাবদ বেশকিছু অর্থ আয় হচ্ছে, সে অর্থ অধ্যক্ষসহ সব শিক্ষক পেয়ে থাকেন।’

তিনি বলেন, গত ২৪ থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি করানো হয়েছে। নিয়ম মেনে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী ২২ থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত লটারিতে নির্বাচিতদের ভর্তি করানো হবে। ২৯ ডিসেম্বর আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে অপেক্ষমাণ থেকে ভর্তি নেয়া হবে। ভর্তি কার্যক্রমে কোনো ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা করা হয়নি।

অধ্যাপক ফৌজিয়া বলেন, ‘আমি যোগদান করার পর থেকে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকি, ছুটি ছাড়া কোনো দিন অনুপস্থিত থাকিনি। প্রতিদিন জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সময় উপস্থিত হয়েছি। কোনো স্তরে এ পর্যন্ত অতিরিক্ত কোনো ভর্তি করানো হয়নি। অভিভাবকদের অনুরোধে পাবলিক পরীক্ষার আগে মডেল টেস্ট চালু রাখা হয়েছে। এ বাবদ অর্থ কমানো হয়েছে।’

এমএইচএম/এমএসএইচ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]