বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০৫ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২০
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম সহ্য করা হবে না। আর্থিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইউজিসি অডিটোরিয়ামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের বাজেট-সংক্রান্ত দুদিন ব্যাপী সভার উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মো. আবু তাহেরের সভাপতিত্বে বাজেট সভায় ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর ও প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিশনের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান।

ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম সহ্য করা হবে না। আর্থিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বিদ্যমান আর্থিক নিয়মাবলী শতভাগ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইচ্ছেমতো আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে সুযোগ-সুবিধা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে উপাচার্য যদি আর্থিক বিষয়ে আউট অব লাইন করেন, আপনাদের (কোষাধ্যক্ষ এবং অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক) দায়িত্ব প্রথমে বিষয়টি তাকে অবহিত করা। এরপরও উপাচার্য যদি কোনো অনিয়ম করেন, তাহলে এর দায়ভার তাকেই (উপাচার্য) নিতে হবে। যদি বিশেষ প্রয়োজন হয় কিংবা কাজটি করার ক্ষেত্রে আপনাদের (কোষাধ্যক্ষ এবং অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক) ওপর চাপ থাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইনে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ইউজিসির পরামর্শ ও অনুমোদন নিয়ে কাজটি সম্পাদন করতে পারেন।

বাজেট এবং আর্থিক বিষয় যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রফেসর ড. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘শুধু বাজেট তৈরি করলেই হবে না, বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বাজেট বাস্তবায়নে এক খাতের বরাদ্দকৃত অর্থ আরেক খাতে ব্যয় অগ্রহণযোগ্য। আর্থিক বিষয়ে পূর্ণ নিয়মের মধ্যে চলতে হবে। এ খাতে ঊনিশ-বিশ হওয়া যাবে না। প্রতিটি খাতের ব্যয় সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।’

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ইউজিসির প্রত্যাশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা চাই, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আরও স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার সুনিশ্চিত করবে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক স্বাধীনতা বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক স্বাধীনতা আর আর্থিক স্বাধীনতা এক নয়। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব আইন, নীতিমালা ও বিধিবিধান রয়েছে। এগুলো পূর্ণমাত্রায় মেনে চলতে হবে।’

তিনি বলেন, অর্থ হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। এখাতে শৃঙ্খলা না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় সুন্দরভাবে পরিচালনা করা যাবে না।

সভাপতির ভাষণে প্রফেসর ড. মো. আবু তাহের করোনা সংকটে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় না করার আহ্বান জানান। এছাড়া নির্দিষ্ট খাতে ও কোডে ব্যয়ে নিয়ম, বিধিবিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন করার পরামর্শ দেন।

তিনি পেনশন সংবিধি তৈরি, মাস্টাররোল, চুক্তিভিত্তিক, দৈনিকভিত্তিক, সিকিউরিটি গার্ড ও আনসার পদে নিয়োগ বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান। প্রয়োজনে ৪র্থ শ্রেণির পদের বিপরীতে কমিশনের অনুমোদন নিয়ে নিয়োগ প্রদানের পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে ২৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক এবং বাজেট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সভায় ২০২০-২০২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং ২০২১-২০২২ অর্থবছরের মূল বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়।

এমএইচএম/এসআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]