এসেছিলেন ফুল হাতে, ফিরলেন মলিন মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৩ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিক্ষকদের স্বপ্ন ছিল রায় তাদের অনুকূলে যাবে। সেই ধারণা থেকেই পরিকল্পনা করে ফুলের তোড়া নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সেই ফুল আর আইনজীবীকে দেয়া হয়নি। তাই ফুলের তোড়াগুলো আদালতের সামনে রেখেই মলিন মনে চলে গেলেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষকদের পে-স্কেল নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের বৈধতার প্রশ্নে জারি করা রুল (রুট ডিসচার্জ) খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। ফলে বেসরকারি থেকে সরকারি (২০১৩-২০১৪ সালে) হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ‘টাইম স্কেল’ সুবিধা ফেরত দেয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের বৈধতার রায় সরকারের পক্ষে চলে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের আশা ছিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র বাতিল হতে পারে হাইকোর্টের রায়ে। আমাদের প্রতিনিধি ও আইনজীবীকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানোর পরিকল্পনা নিয়ে এসব তোড়া কিনে এনেছিলাম। কিন্তু আমাদের ইচ্ছায় গুড়ে বালি হলো হাইকোর্টের রায়ের পরে। উচ্চ আদালতের রায় শোনার পরে শিক্ষক নেতা ও তাদের আইনজীবীকে শুভেচ্ছা না জানাতে পেরে উচ্ছ্বাসের ফুল আদালতের সামনে ফেলে রেখেই মলিন মনে চলে গেলেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই দেশের উচ্চ আদালত অঙ্গনে ছিল জাতীয়করণ করা প্রাথমিক শিক্ষক প্রতিনিধিদের আনাগোনা। রায় ঘোষণা শুরু হওয়ার পর কেউ এজলাস কক্ষের বাইরে দাঁড়িয়ে বা বসে ছিলেন। আবার কোনো কোনো শিক্ষক আদালতের বাইরে এনেক্স বিল্ডিং অঙ্গনে বসেছিলেন।

কথা বলে তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, হাইকোর্টের মামলায় জেতার ভাবনা থেকেই আইনজীবীকে দেবেন বলে অনেকগুলো ফুলের তোড়া নিয়ে এসেছিলেন। সেটি না হওয়ায় ফুল ফেলে নীরবেই চলে গেলেন তারা।

আইনজীবী বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কিনা তা বিবেচনা করবেন।

jagonews24

২০১৩-২০১৪ সালে বেসরকারি থেকে সরকারি হওয়া (জাতীয়করণকৃত) সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৮ হাজার ৭২০ জন শিক্ষকের টাইম স্কেল সুবিধা ফেরত দেয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র নিয়ে হাইকোর্টের রুল খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় বলেন, হাইকোর্ট রিটকারীদের পরিপত্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে বলেছেন।

রিট আবেদনকারীদের তথ্যমতে, পরিপত্র ও গেজেটের ভিত্তিতে জাতীয়করণ করা শিক্ষকরা ২০১৩ সাল থেকে ওই টাইম স্কেলের আর্থিক সুবিধাদি ভোগ করে আসছেন। জাতীয়করণ করা ৪৮ হাজার ৭২০ জন শিক্ষকের টাইম স্কেলের সুবিধা ছিল। গত বছরের ১২ আগস্ট বেসরকারি থেকে সরকারি হওয়া প্রাথমিক শিক্ষকদের টাইম স্কেল সুবিধা ফেরত দেয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করে।

এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম চৌধুরী গত বছর রিট করেন। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট রুল দিয়ে স্কেল সুবিধা ফেরতের পরিপত্রের কার্যক্রম চার মাসের জন্য স্থগিত করেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে। যার শুনানি নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন।

এই আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে রিটকারীপক্ষ আবেদন করে, যা চেম্বার আদালত হয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে ১৩ জানুয়ারি শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে দিয়ে তিন সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টের ওই বেঞ্চে রিটটি নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন।

বিচারপতিদের স্বাক্ষরিত আদেশটি ১৯ জানুয়ারি প্রকাশ পায়। এর ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের ওই বেঞ্চে রিটের ওপর চূড়ান্ত শুনানি হয়। আজ রায় দেয়া হলো।

এফএইচ/জেডএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]