নিয়োগ টেম্পারিংয়ে চাকরি হারালেন ভিকারুননিসার শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৬ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার খাতার উত্তরপত্র টেম্পারিংয়ের অভিযোগে চাকরি হারালেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষক। ইংলিশ বিভাগের ফাতেমা জোহরা হক নামের এই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) স্কুলের গভর্নিং বডির সভাপতি ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, ফাতেমা জোহরা ভিকারুননিসার প্রশাসনিক পদের নিয়োগ পরীক্ষার এক প্রার্থীর খাতায় টেম্পারিং করে নম্বর বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। অভিভাবক ফোরামের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তদন্ত করে এর প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি। এরপর আইনি অন্যান্য ধাপ শেষে বৃহস্পতিবার তাকে চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।

জানতে চাইলে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুন নাহার বলেন, বৃহস্পতিবার এ শিক্ষককে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক পদ না থাকলেও নিজের লোককে অবৈধভাবে নিয়োগ দিতে ভিকারুননিসার সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফওজিয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে তিনি ছলচাতুরীর আশ্রয় নেন। সাধারণ শিক্ষকদের বাদ দিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের একাংশকে দিয়ে খাতা মূল্যায়ন করান। সেখানে তিনি দায়িত্ব দেন ফাতেমা জোহরাকে। অধ্যক্ষের নির্দেশে একজন পরীক্ষার্থীর খাতায় নম্বর বাড়িয়ে দেন ফাতেমা। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ হলে পরিচালনা পর্ষদের ওই সময়ের সভাপতির হস্তক্ষেপে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়।

এই ঘটনায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক ফোরাম শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করে। এতে বলা হয়, পরিচালনা পর্ষদের কিছু সদস্য এবং অধ্যক্ষ নিজে স্বার্থসিদ্ধির জন্য পদ না থাকলেও পদ দেখিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে প্রশাসনিক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন।

এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি করে দেন। কমিটি তদন্তে খাতা মূল্যায়নে ঘষামাজার প্রমাণ পায়। এরপরই অধ্যক্ষ ফওজিয়াকে অপসারণ করে মন্ত্রণালয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে।

গত ১২ জানুয়ারি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ ভিকারুননিসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়ে ফাতেমা জোহরার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বোর্ডের ইস্যু করা চিঠিতে বলা হয়, তদন্ত কমিটির কাছে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেই খাতায় ভুল উত্তর কেটে শুদ্ধ উত্তর লিখে দিয়ে নম্বর বাড়ানোর দায় স্বীকার করেছেন।

এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আনোয়ারুল হক এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন।

এমএইচএম/জেডএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]