অনুদানের গুজব নিয়ে ফের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:২২ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২১

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুদানের বিষয়ে আবারও সর্তকতা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার (৮ মার্চ) দ্বিতীয় ধাপে সতর্কতা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের অনুদান প্রদানের সংশোধিত নীতিমালা ২০২০ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রীদের অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।

রোববার আবেদনের গ্রহণের শেষ দিন ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আবেদনের সময় ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। আবেদন যাচাই-বাছাই করে সীমিত সংখ্যক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অনুদান দেয়া হবে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে, এই রকমের একটি গুজব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে যা বাস্তবতা বিবর্জিত। এ ধরনের কোনো গুজবে কান না দেয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে, রোববার সকালে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে শিক্ষার্থীদের ১০ হাজার টাকা সরকারি অনুদান দেওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবং ইউটিউবে এমন ভুয়া তথ্য প্রচার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। আর তাদের এই গুজবে বিশ্বাস করে শনিবার দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ঢল নেমেছিল। ফটোকপি ও অনলাইন সার্ভিসের দোকানগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।

প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রত্যয়নপত্র নিতে দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এমনকি সারাদেশ থেকে আবেদনের জন্য রাজধানীসহ নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে আসেন অবস্থান না করা শিক্ষার্থীরাও।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অনুদানের আবেদন কারিগরি ক্রটিজনিত কারণে পূর্ব নির্ধারিত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে আবেদন নেয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, প্রতি বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত অনুদান দেয়া হয়ে থাকে। কারা এ টাকা পাবেন তার একটি নীতিমালা আছে। সে অনুযায়ী প্রতি বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান দেয়া হয়ে থাকে।

নীতিমালা অনুযায়ী একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন সংগ্রহ করে কমিটি যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের চূড়ান্ত করে তাদের কিছুটা আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

কাদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হয় জানতে চাইলে সচিব বলেন, বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে। তার মধ্যে শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, শারীরিক অক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে আবেদন চূড়ান্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুদান হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

এমএইচএম/এসএস/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]