স্কুলছাত্র রাকিব হত্যার বিচারে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চায় পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩৩ পিএম, ০৯ মার্চ ২০২১

হাতিরঝিলে স্কুলছাত্র ইফরান খান রাকিব হত্যার ঘটনাটি ভিন্নখাতে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি প্রভাবশালী মহল এ হত্যাকাণ্ডকে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেছে তার পরিবার।

মঙ্গলবার (৯ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বাবা ও মামলার বাদী দীল মোহাম্মদ খান এসব অভিযোগ তুলে এ দাবি জানান। এ সময় নিহত রাকিবের মা শিউলী বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে দীল মোহাম্মদ খান বলেন, ২০১৯ সালের ৬ জুলাই রাকিবকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডকে প্রথম থেকেই প্রভাবশালী মহল তাদের ক্ষমতা ও অর্থ ব্যবহার করে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা ও গাফিলতির কারণে মামলার এজাহার থেকে শুরু করে এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। শুধু তাই নয়, হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ মামলার এজাহার পরিবর্তন করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনার মামলা হিসেবে রেকর্ড করেন।

বলা হয়, রাকিব হত্যার পর প্রথম সাদী নামে এক যুবককে পুলিশ আটক করলেও পুলিশ তার জবানবন্দি না নিয়ে তাকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। পুলিশের বিরুদ্ধে এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত দায়সারা ও গাফিলতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এছাড়াও একজন আসামির মিথ্যা জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে তদন্ত হয়েছে এবং পয়েন্ট তদন্ত করা হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেননি বলেও সংবাদ সম্মেলন থেকে অভিযোগ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রাকিবের বাবা আরও বলেন, তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িতরা রাকিবের গাড়িটি ৫ হাজার টাকায় প্রতিদিন ভাড়া দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু রাকিব কোনো মতেই তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়নি। আর তাদের মাদক ব্যবসার তথ্য রাকিব জানত। তাদের তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়। তাকে এর আগেও একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলাটি পিবিআই তদন্ত করার কারণে পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হন এবং আদালতে নারাজি আবেদন করেন। পরে ঢাকা সিএমএম আদালত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মামলাটি র্যাব -৩-কে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এমএইচএম/এআরএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]