সাত শর্তে অনলাইনে পরীক্ষা নিতে পারবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪৯ পিএম, ০৬ মে ২০২১ | আপডেট: ০৪:৩৩ পিএম, ০৬ মে ২০২১

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাগুলো এখন থেকে অনলাইনে নেয়া যাবে বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার জন্য সাতটি শর্তজুড়ে দিয়ে একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে টেকনিক্যাল কমিটি। এগুলো মেনে পরীক্ষা নিতে পারবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষার্থী যদি অনলাইনে পরীক্ষা দিতে না চায়, সেক্ষেত্রে তাদের চাপিয়ে দেয়া যাবে না। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় যদি মনে করে যে অনলাইনে না নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা সরাসরি পরীক্ষা নেবে, সেটিও করতে পারবে। অর্থাৎ কাউকে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে চাপ দেয়া যাবে না।

বৃহস্পতিবার (৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যরা জুম প্লাটফর্মে বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মূনাজ আহমেদ নূর বলেন, ‘আজকের বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন থেকে যারা চাইবে তারা অনলাইনে শুধু একাডেমিক পরীক্ষাগুলো নিতে পারবে। সেক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদন নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের টেকনিক্যাল কমিটি একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে। সব বিশ্ববিদ্যালয়কে এ গাইডলাইন ফলো করে পরীক্ষা নিতে হবে। সেখানে কীভাবে প্রশ্ন করতে হবে, কীভাবে পরীক্ষা মনিটরিং করতে হবে- সব বিষয় বলা আছে।’

জানা গেছে, ঈদের পর থেকেই যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে অনলাইনে পরীক্ষা নিতে পারবে। করোনার কারণে স্থবির হয়ে পড়া সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে গতি আনতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়া যায় কি-না সেজন্য একটি কমিটি করে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

জানতে চাইলে ইউজিসি সদস্য ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ রয়েছে। এ কারণে গত দুই সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীরা যাতে সেশনজটে না পড়ে সেজন্য অনলাইনে এসব পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এজন্য সাতটি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। এসব শর্ত অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিতে হবে। এটি চূড়ান্ত করতে আজ বৃহস্পতিবার সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তারা এ প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে কেউ কেউ অনলাইনে ক্লাস পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে এখন থেকে অনলাইনে যেকোনো ধরনের পরীক্ষা নিতে বাধা থাকছে না। তবে যেসব পরীক্ষা হাতে-কলমে না দিলেই নয়, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

পরীক্ষা গ্রহণের শর্তগুলো হলো-

১. যেকোনো বিষয়ের তত্ত্বীয় ব্যবহারিক পাঠদান অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ার পর কালক্ষেপণ না করে তার চূড়ান্ত মূল্যায়ন অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। শুধু যে সকল ব্যবহারিক কোর্সে হাতে-কলমে কাজ করা ছাড়া পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, তা অবশ্যই সুবিধাজনক সময়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাসে সম্পন্ন করতে হবে।

২. মূল্যায়ণের ক্ষেত্রে সব বিষয়ের বিপরীতে শিক্ষার্থীর সত্যিকারের মেধা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে চলমান পদ্ধতি ও স্কেল গ্রেড প্রদান করতে হবে।

৩. বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ তাদের জন্য উপযোগী অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার সুস্পষ্ট পদ্ধতি গ্রহণ করবে এবং বাস্তবতার নিরিখে সকল সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় রেখে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করবে।

৪. যেকোনো তত্ত্বীয় বিষয় এবং হাতে-কলমে কাজ করার প্রয়োজন নেই, এমন ব্যবহারিক বিষয়ে চূড়ান্ত নম্বর অনলাইনে পরীক্ষা নিয়ে প্রদান করা যেতে পারে।

৫. ব্যবহারিক ক্লাসের বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্টের ভিডিও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের ইমেইলে এক্সপেরিমেন্টের পুরোনো ডেটা প্রেরণ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা এসব ডেটা অ্যানালাইসিস করে সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে প্রদান করবে।

৬. ল্যাবভিত্তিক নয় এমন থিসিস অনলাইনে সুপারভিশন করা যেতে পারে। ল্যাবভিত্তিক থিসিসের সুপারভিশন যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনলাইনে হতে পারে। থিসিসের হার্ডকপি গৃহীত হওয়ার পর অনলাইনে ভাইভা নেয়া যেতে পারে।

৭. অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট প্রাপ্যতা ও প্রয়োজনীয় স্পিড নিশ্চিত করা দরকার। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাতে পারে।

ইউজিসির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান বলেন, আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড মেনে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নেয়ার আগে তাদের সিন্ডিকেট এবং একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন নিতে হবে।

তিনি বলেন, অনলাইনে পরীক্ষার পাশাপাশি ভাইভাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার স্বচ্ছতার জন্য সব ধরনের কৌশল নিতে বিশ্বিবিদ্যালয়গুলোকে বলা হয়েছে। সেজন্য একটি সফটওয়্যার ডেভেলপ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এমএইচএম/এমএইচআর/এএএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]