উদ্যোক্তা হয়ে অন্যের চাকরির উৎস তৈরি করুন : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৬ পিএম, ১৯ জুন ২০২১ | আপডেট: ০৭:১৮ পিএম, ১৯ জুন ২০২১

চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে গ্রিন ইউনির্ভাসিটির গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছেন, গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে ডিগ্রি নেয়ার পর শুধু চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরবে এটা যেন না হয়। নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। অন্যের চাকরির উৎস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

শনিবার (১৯ জুন) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের চতুর্থ সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের প্রতিনিধি হিসেবে ভার্চুয়াল যুক্ত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এসব কথা বলেন। সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর।

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ। বক্তব্য দেন গ্রিন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকির, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

সমাবর্তনে মোট ১ হাজার ৪৬৪ জনকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ছয়জনকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল এবং ১৩ জনকে ভাইস চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল দয়া হয়।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের স্কলার হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বিদ্যালয়গুলোকে আরও সফট স্কিল, ইমোশনাল স্কিলের সঙ্গে মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। সেগুলো যদি আমরা শিক্ষার্থীদের দিতে না পারি, উচ্চ শিক্ষার যে উদ্দেশ্য তা সফল হবে না। কাজেই আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রতি অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চ শিক্ষা প্রসারে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমানতালে ভালো করছে। তাদের অবদান কোনো অংশেই কম নয়। অনেকগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মানসম্মত উচ্চ শিক্ষা প্রদানে যথেষ্ট ভালো ভূমিকা রাখছে। আমি আশা করি, আগামী দিনে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে স্থান করে নেবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা আমাদের নতুনভাবে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে গুরুত্ব দিতে হবে গবেষণা, নতুন জ্ঞান আহরণে। সেজন্য উন্নতমানের গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার এসব তৈরি করতে হবে।

ডা. দীপু মনি বলেন, করোনা মহামারি সঙ্কটের সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দিয়েছে। অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম হয়তো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমাদের শুরু করতে হতো। কিন্তু করোনা আমাদের সেই দ্বার আগেই খুলে দিয়েছে। অনলাইন লার্নিং, অনলাইন এডুকেশন আমরা শুরু করেছি এবং এখানে আমরা এখন দক্ষ হয়ে উঠেছি।

jagonews24

শিক্ষামন্ত্রী তার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু বিষয় শেয়ার করে গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে বলেন, আমার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তোমাদের উপদেশ দেব না, জাস্ট তোমাদের একজন মা হিসেবে কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই। জীবন থেকে, আশপাশের পরিবেশ থেকে, কাছের মানুষ থেকে সব সময় শিখতে হবে। এ শিক্ষা কখনো আনন্দের হবে, কখনো দুঃখের হবে, কখনো কখনো কষ্টের হবে, কখনো অস্বস্তির হবে, কখনো পরিশ্রমের হবে। পরিস্থিতি যাই হোক তা অনুধাবন করার চেষ্টা করতে হবে এবং সে শিক্ষা গ্রহণ করে জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করতে হবে। তবেই জীবনে সফলতা আসবে।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ডিগ্রিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীরা আমাদের ভবিষ্যতের কাণ্ডারি। তবে প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েটকে মনে রাখতে হবে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ হলেও জীবনের পাঠশালা তোমাদের প্রতিনিয়ত শেখাবে। তোমাদের নতুন নতুন চিন্তাধারাই সমাজ এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণা নিয়ে সরকারের ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা তুলে ধরেন।

সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সমাবর্তনের মাধ্যমে শুধু গ্র্যাজুয়েশন পর্বের সমাপ্তির ঘটছে না বরং আজ থেকে জীবনের আরও একটি পর্বের সূচনা হচ্ছে। তা হলো ব্যবহারিক জীবন, নতুন চ্যালেঞ্জ নেয়া ও নিজের অবস্থান তৈরি করার জীবন। গ্রিন ইউনিভার্সিটির প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েটকে সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে।

এমএইচএম/এমআরআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]