অনিশ্চয়তায় এনটিআরসিএ’র ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ

মুরাদ হুসাইন
মুরাদ হুসাইন মুরাদ হুসাইন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৫ পিএম, ২৬ জুন ২০২১

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক আড়াই হাজার প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া নিয়ে এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। তৃতীয় ধাপে শিক্ষক নিয়োগের আবেদন কার্যক্রম শেষ হলেও এ নিয়োগ কার্যক্রম ঝুলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আগামীকাল (২৭ জুন) এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভর করছে এ নিয়োগের ভবিষ্যৎ।

এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, কারিগরি ও মাদরাসায় লক্ষাধিক শিক্ষক পদ শূন্য থাকলেও দুই বছর ধরে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, কারিগরি-মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য আসনে ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিতে আবেদন কার্যক্রম শেষ হলেও গত এক মাসে ফলাফল প্রকাশ করা যায়নি।

ফলাফল প্রকাশ করা হলে জাতীয় মেধাতালিকা অনুযায়ী যোগ্যদের নিয়োগ দিতে সুপারিশ করবে এনটিআরসিএ।

জানা গেছে, আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে এনটিআরসিএ’র বিরুদ্ধে রিট করেছেন প্রায় আড়াই হাজার চাকরিপ্রার্থী। রিটের প্রেক্ষিতে আদালত এ আড়াই হাজার প্রার্থীকে নিয়োগের আদেশ দিলেও তার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল করেছিল এনটিআরসিএ। কিন্তু আপিলের আদেশও সংস্থাটির পক্ষে আসেনি। গত মঙ্গলবার (২২ জুন) আপিলটি শুনানি শেষে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন। আগামী ২৭ জুন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায় দেয়ার কথা রয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) বিরুদ্ধে ১ থেকে ১২তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় আড়াই হাজার চাকরিপ্রার্থীকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগ দিতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেননি আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি।

জানতে চাইলে রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন হানিফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘তারা সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে যাচ্ছেন। এখন তারা এ আদেশটা পরিবর্তন করতে আপিল করেছে। আদালত আগের নির্দেশনা বহাল রেখেছেন। রিটকারীদের চেয়ে অনেক কম নম্বর পেয়ে চাকরি করছে। সেখানে রিটকারীদের মধ্যে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৭০ নম্বরের বেশি পাওয়া প্রার্থী রয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিন দফায় এ নির্দেশনা বহাল রেখেছেন আদালত। আদালত বলেননি তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির ফল প্রকাশ করা যাবে না, এটি এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ বিলম্ব করছে। আমরা সব সময় ন্যায়বিচার চেয়ে আসছি। শিক্ষিত বেকারদের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পক্ষে চূড়ান্ত রায় আসবে বলেও আশা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এনটিআরসিএ’র কাছে লক্ষাধিক শূন্যপদ রয়েছে। তারা চাইলেই রিটকারীদের নিয়োগ দিয়ে বাকি পদগুলোতে নিজেদের মতো নিয়োগ দিতে পারে। তাদের খামখেয়ালিতে এমন সংকট তৈরি হয়েছে।’

মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীকে নয়, জাতীয় মেধাক্রম অনুযায়ী নিয়োগ দিতে আদালত থেকে নির্দেশনা পাওয়ার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এনটিআরসিএ’র পক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান ভূঁইয়া।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘৫৪ হাজার নিবন্ধিত প্রার্থী চাকরির জন্য আবেদন করে নিয়োগের জন্য অপেক্ষা করছেন। নম্বর কম পেয়ে আড়াই হাজার প্রার্থী চাকরির জন্য আদালতে আপিল করে চাকরি পাবে সেটি যথাযথ বিচার হতে পারে না। সঠিক বিচারের জন্য আমরা কাজ করছি।’

এদিকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিপ্রত্যাশী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি শান্ত আহমেদ বলেন, ‘এনটিআরসিএ’র কার্যক্রম দেখে আমরা হতাশ। তারা মামলায় জেতা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সারাদেশে লক্ষাধিক শিক্ষক পদ শূন্য সেটি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। পরিস্থিতি দেখে যা মনে হচ্ছে তাতে নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তি না দিয়ে সবাইকে মামলা করার নির্দেশনা দেয়াই উচিত ছিল। আমরা পরিষ্কার একটা কথা বলতে চাই, আমাদের পরীক্ষা নিয়েছে, চূড়ান্ত ফলাফল দিয়েছে এনটিআরসিএ, চূড়ান্ত সুপারিশও করবে এনটিআরসিএ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আবেদন করেছি, এনটিআরসিএ মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেবে। তাই আর কোনো কালক্ষেপণ নয়, দ্রুত ফলাফল চাই। সময়ক্ষেপণ করা হলে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।’

জানতে চাইলে এনটিআরসিএ’র সচিব ড. এ টি এম মাহবুব-উল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা চাইলেই আদালতের নির্দেশনা মেনে রিটকারী আড়াই হাজার প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে পারছি না। তৃতীয় ধাপে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, এখন ফলাফল প্রকাশ করা হবে। জাতীয় মেধাক্রম অনুযায়ী সেখানে নিয়োগ দেয়া হবে। ইতোমধ্যে সব বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আবেদন কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে। তাই তৃতীয় ধাপে তাদের নিয়োগ দেয়া সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘আগামী ২৭ জুন সব বেঞ্চের শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায় দেয়ার কথা রয়েছে। সেখানে আড়াই হাজার শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশনায় স্থগিতাদেশ আসলে তৃতীয় ধাপের নিয়োগ কার্যক্রম আবারো শুরু করা হবে। নতুবা সেটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। সেটি পরিবর্তনে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন করে রিট করা হতে পারে।’

এমএইচএম/এমএইচআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]