নর্থ সাউথের অনিয়ম তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪২ এএম, ০৯ আগস্ট ২০২১

রাজধানী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে আর্থিক ও প্রশাসনিক নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ১৬ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের (মাউশি) উপসচিব শামিমা বেগমের স্বাক্ষরে ওই কমিটি গঠন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দকে কমিটির আহ্বায়ক করে সদস্য সচিব করা হয়েছে ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের পরিচালক মো. ওমর ফারুক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহমুদুল আলমকে সদস্য করা হয়েছে।

কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম তদন্তপূর্বক দায়ীদের চিহ্নিত করে সুপারিশমূলক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এতে আরও বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিলের অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না। তাই এর ব্যত্যয় ঘটলে আত্মসাতের সেই অর্থ পুনরুদ্ধারে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা দায়ের করার সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, কমিটির চিঠি পেতে একটু দেরি হয়েছে। এর মধ্যে আমরা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি। করোনা পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের স্বার্থে তদন্ত কার্যক্রমে একটু বেশি সময় লাগতে পারে। তদন্ত কার্যক্রমে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়টির কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবো। পরবর্তী সময়ে তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকারও নেয়া হবে।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির তহবিল থেকে নিজেদের ইচ্ছামতো অর্থ ব্যয় করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বিওটি সদস্যরা। শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির টাকায় একেকজন ট্রাস্টি প্রায় তিন কোটি টাকার বিলাসবহুল রেঞ্জ রোভার গাড়ি কিনে ব্যবহার করছেন। বিওটিসহ নিজেদের তৈরি করা বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় কমিটির সভা ডেকে বড় অংকের সিটিং অ্যালাউন্স নেন ট্রাস্টিরা। সভাভেদে সিটিং অ্যালাউন্স বাবদ একেকজন সদস্য নিচ্ছেন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত, একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে সেটা এক লাখ পর্যন্ত ছিল।

নিজেদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও কেনাকাটা কিংবা সেবার নামে মোটা অংকের অর্থ বের করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে এনএসইউর কয়েকজন ট্রাস্টির বিরুদ্ধে। এমনকি স্ত্রীসহ আত্মীয়-স্বজনদের নামমাত্র নিয়োগ দিয়ে তাদের বেতন-ভাতা বাবদও লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন অনেক ট্রাস্টি। এছাড়াও দরিদ্র কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এমএইচএম/এআরএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]