ভূমিকম্পের পূর্বাভাস পদ্ধতি চালুর আহ্বান বিশেষজ্ঞের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৪ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২১
প্রতীকী ছবি

ভূমিকম্পের পূর্বাভাস সম্প্রচার পদ্ধতি চালু করা সম্ভব হলে আগে থেকে এ সংক্রান্ত প্রস্তুতি মানুষ নিতে পারবেন। তাই দেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতি জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোববার (২৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তারা। এতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ১০০ জনের বেশি অংশ নেন। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও আপৎকালীন প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে উপস্থিত বক্তারা ভূমিকম্পের পূর্বাভাস প্রদানের পদ্ধতি স্থাপনের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।

শুরুতে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে জাপানের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। পরে অধ্যাপক ড. আ ফ ম সাইফুল আমিন বাংলাদেশে এই পদ্ধতি চালুকরণের সম্ভাবনা ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের এ সংক্রান্ত সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ভূমিকম্প আঘাত হানা ও পূর্বসর্তকতার সংকেত প্রচারের মধ্যকার সময় কম হলেও বক্তারা ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসকরণে এ পদ্ধতির অবদানের প্রতি গুরুত্ব দেন। জাপান-বাংলাদেশ পারস্পরিক চেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশে এ পদ্ধতি চালু করা সম্ভব হলে দেশের ভূমিকম্প সহনীয় হওয়ার সক্ষমতা বাড়বে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এসময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভৌত স্থাপনা, যা এই ডিজিটাল জগৎকে ধারণ করে আছে তার সুরক্ষা প্রয়োজন। মানুষ ও স্থাপনার সুরক্ষার মাধ্যমে দেশকে দুর্যোগ মোকাবিলায় রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে জানান তিনি।

সভার বিভিন্ন সেশনে বিদ্যুৎ সেক্টর, মেট্রো রেল ও ন্যাশনাল রেজিলিয়েন্স আয়োজনে বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলা-বিষয়ক পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথভাবে পরিচালিত প্রজেক্টের ফলাফলও উপস্থাপন করা হয়।

এছাড়াও পদ্মা রেল লিংক প্রজেক্ট, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমিধসের পূর্বাভাস, হলরুম ও থিয়েটারে বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে স্ট্রাকচারের ব্যবহার ও বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড ২০২০ নিয়ে আলোচনা হয়। এগুলোর মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশ পায়।

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি দুর্যোগ মোকাবিলা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষাবিদ ও স্টেকহোল্ডারদের যৌথ উদ্যোগ আশা করেন। বুয়েটের উপ-উপাচার্য, অধ্যাপক ড. আবদুল জব্বার খান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

সভায় গবেষক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এমএইচএম/এআরএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]