উল্টো চমেক অধ্যক্ষের বহিষ্কার চান বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২১ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২১

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) থেকে বহিষ্কারাদেশ পাওয়া ৩১ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৩ জনের বিরুদ্ধে শাস্তি বাতিল চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে শাখা ছাত্রলীগের একাংশ। একই সঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সাহেনা আক্তার ও ইন্টার্ন হোস্টেলের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমানের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগের নেতারা। সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, ‘গত ৩০ অক্টোবর এমবিবিএস ৬২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহাদী জে আকিবের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনা সুপরিকল্পিতভাবে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। ওই কমিটি কালক্ষেপণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেননি। উল্টো এখন ছাত্রলীগের নেতকর্মীদের বহিষ্কার করেছেন।’

তারা আরও বলেন, ‘যে একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেটিও বৈধ প্রক্রিয়ায় গঠন হয়নি। আবার মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) বৈঠকে কাউন্সিলের সদস্য ছাড়াও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। অধ্যক্ষের প্রত্যক্ষ ইশারায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বহিষ্কারের মাধ্যমে চমেক ক্যাম্পাসে জামায়াত-শিবিরের অবস্থান করে দেওয়ার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা চমেক অধ্যক্ষ্যের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড অবৈধ দাবি করে বহিষ্কারসহ তার শাস্তি দাবি করেন।

এর আগে, মঙ্গলবার একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযুক্ত ৩১ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারাদেশ পাওয়া ২৩ জন চমেক ক্যাম্পাসে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের এবং আটজন সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ২৯ অক্টোবর চমেকের প্রধান ছাত্রাবাস এবং ৩০ অক্টোবর ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের কয়েকদফা সংঘর্ষ হয়। দ্বিতীয় দিনের সংঘর্ষে চমেক ক্যাম্পাসের পাশে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে মাহদী জে আকিব নামে দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। এরপর থেকে তিনি চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসাধীন থাকার সময় তার মাথার ব্যান্ডেজে 'মাথায় হাড় নেই, চাপ দিবেন না' একটি লেখা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং আলোড়ন সৃষ্টি করে। এসব ঘটনার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য চমেক বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি গত (সোমবার) প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনের ওপর পরদিন মঙ্গলবার একাডেমিক সভা হয়। সেখানে ২৭ নভেম্বর কলেজ খুলে দেওয়া এবং ৩১ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন চমেকে এককভাবে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলো আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী ছাত্রলীগের গ্রুপটি। নাছির চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিও ছিলেন দীর্ঘদিন। গত বছরের ২০ আগস্ট এ পদে দায়িত্বে আসেন উপমন্ত্রী নওফেল। তখন থেকে ধাপে ধাপে চমেক ক্যাম্পাসে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে নওফেলের অনুসারী গ্রুপ। এরপর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উভয় গ্রুপ কিছুদিন পরপর সংঘর্ষে জড়াতে থাকে এবং পাল্টাপাল্টি মামলাও হতে থাকে। সর্বশেষ ২৯ এবং ৩০ অক্টোবর ঘটনার পর মোট তিনটি পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়।

এরমধ্যে ৩০ অক্টোবর দিনগত রাতে নওফেল গ্রুপের মো. তৌফিকুর রহমান বাদী হয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানায় নাছির গ্রুপের ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ১ নভেম্বর নাছির গ্রুপের মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে চকবাজার থানায় পাল্টা মামলা করেন। ওই মামলায় নওফেল গ্রুপের ১৬ জনকে আসামি করা হয়। ৩ নভেম্বর নওফেল গ্রুপের ইমন সিকদার বাদী হয়ে চকবাজার থানায় নাছির গ্রুপের ১৬ জনের বিরুদ্ধে তৃতীয় দফায় মামলা করেন।

মিজানুর রহমান/এমএএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]