রাজধানীতে এখনো সব বই পায়নি শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০২ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২২
ফাইল ছবি

রাজধানীতে এখনো নতুন বছরের সব বই পায়নি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা স্কুলে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। ধাপে ধাপে কয়েকটি বই পেলেও বাকিগুলো নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। রোববার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে দেখা গেছে, এখানে ষষ্ঠ শ্রেণির ১৪টি বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সবগুলো দেওয়া হয়েছে। তবে সপ্তম শ্রেণির ১৪টির মধ্যে চারটি, অষ্টম শ্রেণির ১৪টির মধ্যে নয়টি এবং নবম শ্রেণিতে ১৪টির মধ্যে মাত্র আটটি বই দেওয়া হয়েছে।

স্কুলে বই নিতে আসা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী আয়শা আক্তার রিমা বলেন, বই উৎসবের দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনো স্কুল থেকে সব বই দেওয়া হয়নি। এ পর্যন্ত তিন ধাপে নয়টি বই পেয়েছি। স্কুলে আসলে দুই-তিনদিন পরপর আসতে বললেও বই ছাড়া ফিরে যেতে হচ্ছে। কবে দেওয়া হবে সেটিও নিশ্চিত করে বলা হচ্ছে না।

এই স্কুলের শিক্ষক মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, থানা শিক্ষা অফিস থেকে বই না দিলে আমাদের কিছু করার নেই। মাধ্যমিকের সব বই দেওয়া হয়নি বলে আমরাও দিতে পারিনি।

জানতে চাইলে পল্লবী থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফারজানা শারমিন জাগো নিউজকে বলেন, প্রেস থেকে এখন পর্যন্ত মাধ্যমিকের বিনামূল্যের সব বই পাঠানো হয়নি। আমরা যা পাচ্ছি তৎক্ষণাৎ স্কুলে পাঠিয়ে দিচ্ছি।

শুধু মিরপুর বাংলা স্কুল নয়, রাজধানীর অধিকাংশ স্কুল সব ছাত্রছাত্রীদের বই দিতে পারছে না। আবার কোথাও ক্লাসভিত্তিক গোটা সেট বই যায়নি। ফলে সেখানে শিক্ষার্থীদের আংশিক বই নিয়ে খুশি থাকতে হচ্ছে।

তেজগাঁও আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির সব বই দেওয়া হলেও সপ্তম শ্রেণির ১৪টি বইয়ের মধ্যে বাংলা, ইংরেজি, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, বাংলাদেশ-বিশ্ব পরিচয়, সাধারণ বিজ্ঞান ও গণিত বই দেওয়া হচ্ছে না।

আটটি বই নিয়ে স্কুল থেকে যাওয়ার সময় সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সালমান বলেন, আমাকে স্যার আটটি বই দিয়েছেন। বাকি বই এখনো আসেনি, পরে দেবে বলেছেন। সব বই না পাওয়ায় মনটা খারাপ হয়ে গেছে। যা পেয়েছি তাই নিয়ে যেতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান জাগো নিউজকে বলেন, আমরা এ পর্যন্ত ষষ্ঠ শ্রেণির সব বই পেয়েছি। সপ্তম শ্রেণির আটটি বই এসেছে। আর অষ্টম ও নবম শ্রেণির কোনো বই দেওয়া হয়নি। যেগুলো পাওয়া গেছে সেগুলো বিতরণ করা হচ্ছে।

সরকার এবার প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৫ কোটি বই ছেপেছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরে নয় কোটি ৯৮ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৪টি, আর মাধ্যমিকে ২৪ কোটি ৭১ লাখ ৬৩ হাজার ২৫৬টি বই আছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ৩১ ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকে নয় কোটি ২৭ লাখ ৬২ হাজার ২৩২ এবং মাধ্যমিকে ২১ কোটি ৯২ লাখ ২০ হাজার ৫৫৫টি বই সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। এই হিসাবে প্রাথমিকে ৭০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৪২ এবং মাধ্যমিকে দুই কোটি ৭৯ লাখ ৪২ হাজার ৭০১ বই সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মশিউজ্জামান বিষয়টি স্বীকার করে জাগো নিউজকে বলেন, এখনো মাধ্যমিকের প্রায় পৌনে দুই কোটি বই ছাপার কাজ শেষ হয়নি। এ কারণে অনেক স্থানে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই দেওয়া সম্ভব হয়নি। মাদরাসার ক্ষেত্রে একই অবস্থা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, করোনার কারণে মাধ্যমিকের বই তৈরিতে অনেক দরপত্র বাতিল হয়ে যায়। দরপত্র পুনরায় করায় নির্ধারিত সময়ে বই পাওয়া সম্ভব হয়নি। তার ওপরে গ্যাস লাইনে জটিলতা তৈরি হওয়ায় প্রেসগুলোতে গত এক সপ্তাহ কাগজ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বর্তমানে সে সমস্যা সমাধান হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সারাদেশে শতভাগ বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

এমএইচএম/জেডএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]