শাবিপ্রবির আন্দোলন উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের চক্রান্ত: ৩৫ ভিসি

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৫২ এএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২২
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন/ফাইল ছবি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের (ভিসি) পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন চলছে তাকে ‘দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলার একটি চক্রান্তের অংশ’ বলে মনে করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের চলমান এই আন্দোলনকে ‘নীতিবহির্ভূত’ বলেও মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) ভিসি ড. মো. হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এসব কথা জানায় সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গত ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের এক জরুরি সভা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম জুমে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমান। সভায় ৩৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্যগণ উপস্থিত ছিলেন। এতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উপাচার্যগণ মতবিনিময় করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের বিবৃতি অনুযায়ী, সভায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী মহিলা হলের একজন প্রাধ্যক্ষকে অপসারণের দাবিতে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে প্রশাসনের অনভিপ্রেত ঘটনার প্রেক্ষাপটে ছাত্র-ছাত্রী, পুলিশ ও শিক্ষকবৃন্দের যারা আহত হয়েছেন তাদের সবার প্রতি আমরা সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। এরই মধ্যে বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলে একজন নতুন প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হলেও উপাচার্যসহ তার পরিবারের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখার মাধ্যমে বর্তমানে যে জটিল পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে তা আমাদের কোনোভাবেই কাম্য নয়। নীতিবহির্ভূতভাবে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে এখন ক্রমশ যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্টি করা হচ্ছে তা সমগ্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে তোলার মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলার একটি চক্রান্তের অংশ বলেই প্রতিভাত হচ্ছে।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যকার সম্পর্কটি শ্রদ্ধা, স্নেহের ও পারস্পরিক সম্মানবোধের। সেটি যেন অক্ষুণ্ন থাকে তা আমাদের অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে এবং যে কোনো সমস্যা, তা যত বড়ই হোক না কেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে অবশ্যই সমাধান করা সম্ভব বলে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ মনে করে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতি নিরসনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তবে এ বৈঠকে কোনো সমাধান না আসায় অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার দিনগত রাত ১টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া এ বৈঠক শেষ হয় রাত আড়াইটায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনের ১২৯ নম্বর কক্ষে জুম প্ল্যাটফর্মে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এমএইচআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]