ভিসি ফরিদকে সরানো হবে কি না আলোচনা করে সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫৩ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২২
ব্রিফিংয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

আবাসিক হলের কয়েকটি সমস্যা নিরসনের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের ছাত্রীরা। সেই আন্দোলনের দুদিন পরই যোগ হয় হলটির প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগের দাবিও। ছাত্রীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আন্দোলনে নামেন ছাত্ররাও। আন্দোলন দমনে প্রশাসনের হুমকি-ধামকি, ছাত্রলীগের হামলা, পুলিশের লাঠিপেটায় ফুঁসে ওঠেন শিক্ষার্থীরা।

সর্বশেষ উপাচার্যের বিতর্কিত মন্তব্যে আন্দোলনে নতুন মোড় নেয়। দাবি ওঠে উপাচার্যের পদত্যাগের। শেষ পর্যন্ত ‘উপাচার্য হটাও’ দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরও চারজন। টানা সাতদিন অনশনের পর অবশেষে নমনীয় হন শিক্ষার্থীরা। অনশন ভাঙলেও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

শাবিপ্রবির চলমান ইস্যু নিয়ে বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকার হেয়ার রোডে নিজ বাসভবনে প্রেস ব্রিফিং করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সরানো হবে কি না? তবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি শিক্ষামন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগ করেন। উপাচার্যকে সরানোর ব্যাপারে ভিন্ন একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। তাকে রাখা হবে নাকি সরানো হবে, তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

উপাচার্যকে সরিয়ে দেওয়াটাই একমাত্র সমাধান নয় জানিয়ে দীপু মনি বলেন, ‘একজন উপাচার্যকে সরানো হলে সেখানে অন্যজন আসবেন। উপাচার্য থাকলেন নাকি থাকলেন না, তাতে কিন্তু শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান হবে না। উপাচার্যকে সরানোর পরও যদি শিক্ষার্থীদের সমস্যা থেকে যায়, তাহলে তাদের কোনো লাভ হবে না। তাই শিক্ষার্থীদের সমস্যা চিহ্নিত করে, তা সমাধানে গুরুত্বসহকারে নজর দিতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক। তাদের সব দাবি-দাওয়া বাস্তবায়ন করবো। তারা অনশন ভেঙেছেন, এজন্য তাদের সাধুবাদ জানাচ্ছি। তারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন, আমরাও তাদের আস্থার প্রতিদান দেবো।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সরকার সবাই একপক্ষ। এখানে দুইপক্ষ বলে কিছু নেই। এ ধরনের আন্দোলনে অনেক সময় সহিংসতা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। তবে এখানে তা ঘটেনি, তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছে।’

শিক্ষার্থীরা চাইলে আলোচনায় বসতে সিলেট যাবেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়েছেন। তারা একটু গুছিয়ে উঠুক। তারা চাইলে কিছুদিন পর আমি সেখানে (শাবিপ্রবিতে) যেতে পারি। শিক্ষার্থীরা চাইলে আমরা যে কোনো সময় তাদের সঙ্গে বসবো।’

দীপু মনি বলেন, ‘শাবিপ্রবির পুরো বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন আমরা তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছি। অনশন যারা করেছিলেন এবং আন্দোলনে ছিলেন, তারা সবাই মিলে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, শিক্ষার্থীরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে এখানেই আন্দোলনের ইতি টানবেন। আমরা তাদের দাবি-দাওয়া খতিয়ে দেখে সমাধানের ব্যবস্থা করবো।’

শাবিপ্রবি সংকটের মধ্য দিয়ে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সমস্যা সমাধানের সুযোগ পেয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণ ও সমস্যা সব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। অপরাধী যেই হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের মাধ্যমে কিছু সমস্যা উঠে এসেছে। সেগুলো খুঁজে বের করে সমাধানের সুযোগ পেলাম আমরা। এটা শুধু শাবিপ্রবিতে নয়, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের সংকটের সমাধান করা হবে।’

আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেফতার পাঁচ শিক্ষার্থীকে জেলে পাঠানো হয়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাদের জামিন হয়েছে। তারা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টা আমরা দেখবো।’

এমএইচএম/এএএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]