৩৩২ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিলো ঢাকা কলেজ

ঢামেক প্রতিবেদক
ঢামেক প্রতিবেদক ঢামেক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৫ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২২
ছবি- জাগো নিউজ

বুয়েট, মেডিকেলসহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ৩৩২ মেধাবীদের সংবর্ধনা দিয়েছে ঢাকা কলেজ প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় ঢাকা কলেজের চারটি অডিটোরিয়ামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পৃথকভাবে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

সংবর্ধনা পাওয়া শিক্ষার্থীরা ২০২০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ৫৩ জন, বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০ জন, বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ৩২ জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৮ জন, দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৯ জন ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

তবে শিক্ষকরা বলছেন, কলেজ ওয়েবসাইটে যারা নিবন্ধন করেছে এটি তাদের সংখ্যা। ভর্তির সুযোগ পাওয়া প্রকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বেশি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেন, উপ-মহাদেশের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজ। ১৮০ বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানটি শ্রেষ্ঠত্বের আসন ধরে রেখেছে। এ বছর বুয়েট ও মেডিকেলসহ বিভিন্ন বিশ্বিদ্যালয়ের ৩৩২ জন ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা অগ্রজ, তোমাদের দেখে ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। যদি সব শিক্ষার্থী সুযোগ পেতো আমাদের আরও ভালো লাগতো।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, বর্তমানে দেশের দুই-তৃতীয়াংশ জনশক্তি তরুণ। তরুণরা দেশের মূল চালিকাশক্তি। তাই তরুণদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লব। এ চ্যালেঞ্জ শক্তভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তোমাদের কর্মমুখী দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কর্মমুখী শিক্ষা অর্জন না করতে পারলে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। দক্ষ জনশক্তির জন্য উন্নত বিশ্বের দ্বার উন্মুক্ত।

তিনি বলেন, ইউরোপ বা আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া সব দেশেই শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তির জন্য কর্মের সুযোগ রয়েছে। তাই উন্নত বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে তোমাদের অবশ্যই দক্ষ জনশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। আজ আমরা দেখছি আমাদের দেশে বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ মানুষ কাজ করছে। সেখানে আমাদের দক্ষ জনবলের অভাব।

সুশিক্ষিত মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য কলেজ থেকে তোমরা অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা পেয়েছো। তাই জাতির জন্য তোমাদের অনেক দায়বদ্ধতা রয়েছে। ঢাকা কলেজের জন্যও অনেক বেশি দায়বদ্ধতা রয়েছে। সমাজ ও দেশের জন্য এ দায়বদ্ধতা কখনো এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। দেশের দুর্নীতি কখনো কৃষক, শ্রমিক করেনা। শিক্ষিত মানুষেরাই দুর্নীতি করে। তাই নিজেদের এসব থেকে দূরে থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

৩৩২ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিলো ঢাকা কলেজ

ঢাকা কলেজ নিবিড় পাঠ ও পরিকল্পনা বিভাগের আহ্বায়ক অধ্যাপক পুরঞ্জয় বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ টি এম মঈনুল হোসেন।

তিনি বলেন, আমরা গত দুই বছর যে পরিশ্রম করেছি তার ফলাফল হিসেবে তোমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছ এবং আমাদের সামনে উপস্থিত হতে পেরেছো। তোমরা তোমাদের ভবিষ্যৎ জীবনের প্রথম ধাপে নিজেদের সফল হিসেবে উপস্থাপন করতে পেরেছো। বাকি জীবনের সবস্তরে সবার সফলতা কামনা করছি। আমরা তোমাদের বিগত বছর গুলোতে অনেক বেশি শাসনে রেখেছি, তোমরা হয়তো কষ্টও পেয়েছো। আজ হয়তো বুঝতে পারবে কেন আমরা তোমাদের শাসনে রেখেছি। পোশাক, চলাফেরা ও ক্লাসে উপস্থিতিতে কেন আমাদের এতো নজর ছিলো।

ঢাকা কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আব্দুল কুদ্দুস সিকদার বলেন, ঢাকা কলেজের যে গৌরব ও কৃতিত্ব সেটা আবারও তোমাদের সফলতার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। এজন্য আমি খুব আনন্দিত। তোমাদের যে স্বীকৃতি আজকে আমরা দিচ্ছি সেটা ভবিষ্যতে তোমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করবে। ঢাকা কলেজের এসব শিক্ষার্থী কৃর্তিমান মানুষ হিসেবে দেশ ও জাতির উন্নয়নে অবদান রাখবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক পুরঞ্জয় বলেন, আমরা তোমাদের নিয়ে গর্ব করি। একটা সময় অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিষয়ে অনেক কড়াকড়ি আরোপ করেছি। তোমাদের অনেক শাসনে রেখেছি। যার ফলে তোমরা এই আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছো। তোমাদের এই অর্জনে আমরা গর্বিত। তোমাদের রত্নগর্ভা মা-বাবার প্রীতি অজস্র সালাম।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ ঢাকা কলেজের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

আইএইচ/এমআরএম/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]