বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ চায় বিএমজিটিএ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩৪ পিএম, ২০ মে ২০২২

বেসরকারি শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা দেওয়া ও মাদরাসাসহ সব শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের লক্ষ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরের মোট বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমজিটিএ)।

শুক্রবার (২০ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএমজিটিএ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হারুন অর রশিদ। এসময় মাদরাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ছিল ২৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ছিল ৩৬ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। অথচ কারিগরি ও মাদরাসা দু'টি বিভাগে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৯ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। যার কারণে মাদরাসা শিক্ষায় তেমন কোনো উন্নতি করা হয়নি। তাই আসছে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে কারিগরি ও মাদরাসা দু'টি বিভাগের বাজেট ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং মাদরাসাসহ সব শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের লক্ষ্যে মোট বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির অগ্রগতি সম্ভব নয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই শিক্ষাখাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দের প্রয়োজন।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলন থেকে সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো: বেসরকারি শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা দেওয়া। আলিম, ফাযিল ও কামিল মাদরাসায় প্রভাষকদের ৮ বছর পূর্তিতে ৫০ শতাংশ হিসেবে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া ও ১৬ বছর পূর্ণ হলে সব প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া। সরকারি নিয়মে শিক্ষকদের মেডিকেল ও বাড়িভাড়া দেওয়া। বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি প্রথা চালু। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্তকরণ এবং নন-এম্পিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ। মাদরাসার প্রশাসনিক পদে জেনারেল শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া এবং মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ।

অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের (স্বাশিপ) সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলম সাজু বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হলে শুধু মুখে নয়, বাজেটেও তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। শিক্ষখাতে আমাদের অনেক অর্জনের পাশাপাশি আমাদের কিছু অপ্রাপ্তি রয়ে গেছে। সব অপ্রাপ্তি যদি প্রাপ্তিতে রূপান্তর না হয় তাহলে শিক্ষার মান বাড়বে না।

শিক্ষার ৯৮ শতাংশ কিন্তু বেসরকারির হাতে। শিক্ষা ছাড়া ডেল্টাপ্ল্যান বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আমরা চাই টোটাল শিক্ষাকে জাতীয়করণে অধীনে আনা হোক। তাই আসন্ন বাজেটে শিক্ষাখাতে ২০ শতাংশ বরাদ্দ রাখতে হবে। ২০ শতাংশ না হলেও অন্তত ১৫ শতাংশ রাখতে হবে। এটা আমার কথা নয়, বঙ্গবন্ধুই শিক্ষাখাতে ২০ শতাংশের বাজেট বরাদ্দের কথা বলে গেছেন। জাতীয়করণ হলে শিক্ষার মান বাড়বে, গরিব ও মেহনতী মানুষের সন্তানেরা নামমাত্র টাকায় পড়াশোনা করতে পারবে।

এএএম/এমএএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]