চেয়ার দখল বরখাস্ত অধ্যক্ষের, আতঙ্কে মিরপুর কলেজের ছাত্র-শিক্ষক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ০২ জুলাই ২০২২
ছবি: সংগৃহীত

অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের দায়ে রাজধানীর মিরপুর কলেজের অধ্যক্ষ মো. গোলাম ওয়াদুদকে বরখাস্ত করেছে কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি (জিবি)। একই সঙ্গে তার মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) স্থগিত করা হয়েছে। বর্তমানে এ চেয়ারে একজন সিনিয়র শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ জোর করে চেয়ার দখল করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কোনো নির্দেশনা ছাড়াই বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করে রেখেছেন। পুলিশি সহযোগিতা নিয়ে তিনি এমন অন্যায় কাজ করছেন। সে কারণে থানায় গেলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২১ আগস্ট কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য শরিফ এনামুল কবিরের নেতৃত্বে এক বৈঠকে সাবেক অধ্যক্ষ গোলাম ওয়াদুদকে বরখাস্ত করা হয়। কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্তে অধ্যক্ষ ওয়াদুদের বিরুদ্ধে কলেজের ফান্ড থেকে অর্থ আত্মসাৎসহ ৩৪টি অনিয়মের প্রমাণ মেলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৭ আগস্ট তার এমপিও স্থগিত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

এ বিষয়ে শনিবার (২ জুলাই) কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, গত ২৫ জুন সাবেক অধ্যক্ষ গোলাম ওয়াদুদ স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে কলেজে প্রবেশ করেন। এরপর আমাকে চেয়ার থেকে তুলে দিয়ে তিনি বসেন। আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর নেন। সেই কাগজে অনেক শিক্ষকদেরও স্বাক্ষর নিয়েছেন। সবার সম্মতিতে তিনি চেয়ারে বসেছেন প্রমাণ কারতে জোর করে শিক্ষকদের স্বাক্ষর নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, নিয়মিত বহিরাগতদের সঙ্গে এনে অধ্যক্ষের রুমে বসছেন গোলাম ওয়াদুদ। কক্ষে রাখা অনেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তিনি সরিয়ে ফেলছেন। যাওয়ার সময় ব্যক্তিগত তালা লাগিয়ে চাবিও সঙ্গে করে নিয়ে যান। তার এ ধরনের অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মামলা করতে ব্যবস্থাপনা কমিটি সিদ্ধান্ত নিলেও থানায় মামলা নেওয়া হয়নি। এ কারণে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে দিন পার করছেন।

কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি (জিবি) সদস্য মো. শামীম জাগো নিউজকে বলেন, গোলাম ওয়াদুদের বিরুদ্ধে ৩৪টি অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি আদালতে রিট করলেও এখানো শুনানি হয়নি। তবে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটি রিভিউয়ের নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি পুনর্গঠনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠি নিয়ে তিনি জোর করে চেয়ারে বসেছেন। এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে জানালে গত ২৩ জুন গোলাম ওয়াদুদকে সতর্ক করে দায়িত্বে বসার অনুমোদন দেওয়া হয়নি জানানো হলেও তিনি তা আমলে নিচ্ছেন না। তার এমন অন্যায় কাজ বন্ধে মিরপুর মডেল থানা ও মিরপুর জোনের ডিসির কাছে জিবি সদস্যরা গেলেও মামলা নেওয়া হয়নি। কলেজে আসলে তাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী দিয়ে লাঞ্চিত করে বের করে দিতে বলা হচ্ছে। এতে সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম ওয়াদুদ জাগো নিউজকে বলেন, আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি আদালতে রিট করেছি। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক বরখাস্তের সময়সীমা তিন মাস পার হলে সেই ব্যক্তি আবারও আগের পদে বহাল হয়ে যাবে। তার ভিত্তিতে আমি চেয়ারে বসেছি। এজন্য কারও অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সাধারণ শিক্ষকরা তাকে গ্রহণ করছেন বলেও জানান তিনি।

থানায় মামলা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুরে জোনের ডিসি আ স ম আহাতাব উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, কলেজের সমস্যা আমাদের কাছে কেন? শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ দেবে। কলেজের ছাত্রছাত্রী-শিক্ষকরা কোথায়? তারা বাধা দিতে পারে না? তারা যদি না পারে তবে থানায় গিয়ে মামলা করুক। সেখানে না নিলে কোর্টে গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেন তিনি।

এমএইচএম/ইএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]