সরকারি কলেজগুলোতে দ্রুত শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৪ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২২
ডিআরইউতে সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির সংবাদ সম্মেলন

৩০ আগস্টের মধ্যে আত্তীকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-প্রটেকশনের প্রজ্ঞাপন জারি করে আত্তীকরণ বিধিমালা-২০১৮ সংশোধনের দাবি জানিয়েছে সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতি (সকশিস)। পে-প্রটেকশন বাস্তবায়ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিও জানায় সংগঠনটি।

রোববার (৩১ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সকশিস আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান শিক্ষকরা। দাবি না মানা হলে কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তারা।

শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো, আত্তীকরণ বিধিমালা- ২০১৮ এর অসংগতি দূর করতে ১০০ শতাংশ কার্যকর চাকরিকাল নির্ধারন করে সবক্ষেত্রে কার্যকর করা, পদসোপান তৈরি ও পদোন্নতির ব্যবস্থা করা, শিক্ষক প্রতিনিধি যুক্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিধিমালা সংশোধন করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০১৬ সালের ১৭ জুন ৩০২টি বেসরকারি কলেজকে সরকারি করার জন্য নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিত কলেজসমূহে একই বছরের ৩০ জুন নিয়োগ ও অর্থ ব্যয়ের ওপর নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

এরপর শুরু হয় যাচাই-বাছাই কার্যক্রম। প্রথম পর্যায়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নিয়ন্ত্রণাধীন নয়টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক, উপরিচালক ও সহকারী পরিচালককের সমন্বয়ে তিন সদস্যের পরিদর্শন টিম স্ব স্ব অঞ্চলের নির্বাচিত কলেজগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন ও কাগজপত্র যাচাইবাছাই করে প্রতিবেদন জমা দেন।

এরপরে, সমন্বিত পদসৃজনের জন্য ঢাকা জেলার চারটি কলেজকে পদ সৃজনের মডেল হিসেবে বিবেচনা করে পাইলটিং করা হয়। ২য় ধাপে কাগজপত্র যাচাইবাছাই করার লক্ষ্যে মাউশির চাহিদাপত্র মোতাবেক ‘ক’ ‘খ’ ‘গ’ ছকে শিক্ষক-কর্মচারীসহ প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ও তথ্যাদির হার্ড কপি ও সফট কপি জমা নেওয়া হয়।

৩য় ধাপে ২০১৯ সালের ২৪ জুন থেকে সব কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানের মূল কাগজপত্র মাউশিতে এনে যাচাইবাছাই শুরু করা হয়। ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে ৪র্থ ধাপে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সব শিক্ষক-কর্মচারী ও কলেজের মূল কাগজপত্র যাচাইবাছাই শুরু করে।

সরকারি কলেজগুলোতে দ্রুত শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের দাবি

২০২০ সালের ১ জানুয়ারি যাচাইবাছাইয়ের কাজ গতিশীল করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঁচটি কমিটির গঠনের অফিস আদেশ জারি করা হয়। এতেও কাজের গতি বৃদ্ধি না পাওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রনালয় পুনরায় ২০টি কমিটি গঠন করে। কিন্তু অধিকাংশ কমিটি অর্পিত দায়িত্ব পালন না করায় আত্তীকরন কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ বছরের ৩০ জুন পদসৃজনের কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দিলেও ৩০ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১২০টি কলেজের পদসৃজন প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি।

বিধিমালা সংশোধনীর জন্য পাঁচবার আবেদনপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও এর কোনো সুরাহা হয়নি। রিভিউ আবেদনেরও কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। এরই মধ্যে সদ্য সরকারিকৃত কলেজের কিছুসংখ্যক ফাইল অর্থ মন্ত্রণালয়ে গিয়েছে।

সকশিসসের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আ ন ম রিয়াজ উদ্দিন দাবি করেন, ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে মাউশিতে নিযুক্ত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির অতিউৎসাহী কতিপয় কর্মকর্তা ও একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ ব্যর্থ হতে চলেছে।

তিনি বলেন, একই সময়ে ঘোষিত মাধ্যমিক স্কুলগুলোর আত্তীকরনের কাজ অনেক আগেই সমাপ্ত হয়েছে। এতেই প্রমাণ হয়, ষড়যন্ত্রকারী মহল এ দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় চারহাজার শিক্ষক-কর্মচারী আত্তীকরন থেকে বঞ্চিত হয়ে চোখের জল নিয়ে অবসরে গেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সকশিষের সদস্যরা হুশিয়ারি দেন, ৩১ আগস্টের মধ্যে আত্তীকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সংরক্ষন প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর প্রতিটি সরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা কলেজের সামনে একঘনণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। সেখান থেকেই পরবর্তী সময়ের কঠোর কর্মসূচির ঘোষনা দেওয়া হবে।

এমআইএস/এসএএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।