বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

বাজেটের ২ শতাংশ অর্থ গবেষণায় ব্যয়ের নির্দেশ ইউজিসির

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৩৭ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০২২

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা খাতে বাজেটের দুই শতাংশ অর্থ ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সম্প্রতি ‘অফিস স্মারক’ হিসেবে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। সংস্থাটির পরিচালক (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) মো. ওমর ফারুখ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৫ নভেম্বর ইউজিসি থেকে পাঠানো ওই অফিস স্মারকে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২১ এর ৯(৬) ধারায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাৎসরিক বাজেটের ব্যয় খাতে কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত একটি অংশ গবেষণার জন্য বরাদ্দ রেখে তা এ খাতে ব্যয় করতে হবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেটের গবেষণা খাতে ন্যূনতম দুই শতাংশ নির্ধারণ করা হলো।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় কমিশন সময়ে সময়ে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দুই শতাংশের বেশি যৌক্তিক পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউজিসির কর্মকর্তারা জানান, দেশে বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে ১০৯টি। এর মধ্যে একশোটি চালু থাকলেও অর্ধেকের মতো প্রতিষ্ঠান গবেষণা কার্যক্রমই চালাচ্ছে না। সর্বশেষ প্রকাশিত ইউজিসির ৪৭তম বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল একশ চারটি। এর মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালু ছিল ৯৬টিতে। আর ওইসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৪৮টি গবেষণা খাতে ব্যয় করে। ওই বছর বরাদ্দের পরও ১৭টি কোনো অর্থই ব্যয় করেনি। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- সেন্ট্রাল উইমেন’স ইউনিভার্সিটি, দি পিপল’স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

এছাড়া ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, জেডএইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়, দ্য ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স, রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, আনোয়ার খান মডার্ন ইউনিভার্সিটি, জেডএনআরএফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস, বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টারন্যাশনাল স্টান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ হচ্ছে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি। কেবল গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান তৈরি হয়। তাই গবেষণায় এমন দশা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্কুল বা কলেজের কেবল পাঠদানের প্রতিষ্ঠানেই পরিণত হবে। এজন্যই ইউজিসি এখন এই খাতে বরাদ্দে তোড়জোড় শুরু করেছে।

সংস্থাটির পরিচালক ওমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, ২০১০ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৯ এর ৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাৎসরিক বাজেটের ব্যয় খাতে কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত একটি অংশ গবেষণার জন্য বরাদ্দ অর্থ ব্যয় করতে হবে।’ এখন যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এ খাতে ব্যয় না করে তাহলে সেটা সাময়িক সনদ বাতিলের মতো অপরাধ। কেননা, ওই ধারায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সাতটি শর্ত জুড়ে দেওয়া আছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কর্ম চলে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনেও তথ্য পাওয়া যায়। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কার্যক্রম মূল্যায়নের ক্ষেত্রে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সিমাগো-স্কপাসের তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালে বাংলাদেশের ৩৪টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা হয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১২টি।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, দ্য ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস, এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ, আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, চিটাগং ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ।

এমএইচএম/আরএডি/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।