শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে: মন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৭ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২২

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের রূপকল্পের বাংলাদেশ গড়তে হলে ঔপনিবেশিক আমল থেকে চলা মুখস্থনির্ভর আর পরীক্ষায় উগড়ে দেওয়া শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে চলবে না। বরং শিক্ষাকে আনন্দময় করতে হবে। সমস্যা সমাধানে দক্ষতা বাড়াতে হবে। আত্মশক্তিতে বলিয়ান হতে হবে।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) স্টেট ইউনিভার্সিটির (এসইউবি) ষষ্ঠ সমাবর্তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। উচ্চশিক্ষার জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। ন্যাশনাল ব্লেন্ডেড এডুকেশন মাস্টার প্লান চূড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছে। অবকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষায় প্রযুক্তির মেলবন্ধন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুরুর সময় অনেকের মনে অনেক অনিশ্চয়তা ছিল। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে শিক্ষার মানের দিক থেকে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অভিকর্ষতা অর্জন করেছে।

সমাবর্তন বক্তা সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, দেশের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ নিরলসভাবে সততার শক্তি নিয়ে কাজ করছেন। এই মানুষদের কাছ থেকে আত্মশক্তির পাঠ গ্রহণ করুন। নিঃশব্দে, লক্ষ্য স্থির করে, নিজের সঙ্গে কোনো বিবাদে না জড়িয়ে শুধু এগিয়ে যান। আত্মশক্তিতে বলিয়ান হোন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ডা. এ এম শামীম বলেন, যোগাযোগে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বড় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সৎ থাকতে হবে। বাবা-মাকে সম্মান করতে হবে। পৃথিবীর যেখানেই কাজ করো দেশকে ভালোবাসতে হবে। মানুষকে ভালবাসতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আনোয়ারুল কবির বলেন, আমরা একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ আর চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে সামনে রেখে যেমন শিক্ষা ব্যবস্থা সাজিয়েছি, তেমনি ভুলে যাইনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় চেতনার ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা। আমাদের শিক্ষার্থীরা গুগলসহ সব জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি আমাদের জন্য গর্বের। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বলেন, দেশ তোমাদের কী দিলো তার চেয়ে বেশি তোমরা দেশকে কী দিলে- সেটা মনে রাখতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ৬ষ্ঠ সমাবর্তনে তিনটি অনুষদের মোট এক হাজার ৮২৫ জন শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শিতা ও ফলাফল অর্জনকারী মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা পদক দেওয়া হয়।

এর মধ্যে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী সোহেলী আক্তার সেতু, জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জাহাঙ্গির আলম এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ খান। এছাড়া ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন সাত জন এবং ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ৫৫ শিক্ষার্থী।

এমএইচএম/কেএসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।