‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নির্ধারিত ফ্ল্যাটের অধিকাংশই খালি’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০৬ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২২

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য নির্মিত বহুতল ভবনের অধিকাংশ ফ্ল্যাট খালি পড়ে রয়েছে। অন্যদিকে আবাসিক সঙ্কটের কারণে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) এক কর্মশালায় এ কথা বলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মো. আবু তাহের। ইউজিসি অডিটোরিয়ামে এই কর্মশালা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান।

ড. মো. আবু তাহের বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ভবন এবং হল নির্মাণ করা হচ্ছে। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য নির্মিত ভবনের অধিকাংশ ফ্ল্যাটই খালি। অন্যদিকে আবাসিক সঙ্কটের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

মূলত যে ভবন প্রয়োজন তা উন্নয়ন প্রকল্পে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, অপ্রয়োজনে ভবন নির্মাণ হলে শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হবে।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক ভবন খালি পড়ে রয়েছে সেসব বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন করে উন্নয়ন প্রকল্পে একই ধরনের ভবন নির্মাণের বিষয়টি যুক্ত না করার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট সময়ে ও পরিকল্পনা মাফিক বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন তিনি।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি সম্পর্কে আবু তাহের বলেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হচ্ছে না। এক্ষেত্রে বারবার তারা সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করছেন। এতে সরকারের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তারা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের তদন্ত অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবাহের ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যেন এসি লাগবেই। সেখানে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন রাখা হচ্ছে না। এতে করে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে এবং সরকারের খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সড়ক বারবার সংস্কার প্রসঙ্গে প্রফেসর আবু তাহের বলেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাস্তা বছরে তিনবার সংস্কার করারও উদাহরণ আছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলেই ঘটছে এ ঘটনা।

এমএইচএম/জেডএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।