ঐতিহাসিক পুরাকীর্তির নমুনায় টানে দর্শনার্থীদের

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৩ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

অমর একুশে গ্রন্থমেলার বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে প্রবেশমুখ থেকে একটু ভেতরে হাঁটলে পুকুর পাড়ে দেখা মিলবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের স্টল। দূর থেকে যে কারোরই নজরে আসে ১১-১২নং এ স্টলটি। সামনে গিয়ে স্টলে থাকা বিভিন্ন ঐতিহাসিক পুরাকীর্তির নমুনা দেখতে ইচ্ছে করবে। নমুনাগুলো সম্পর্কে জানার ও দু-একটি সংগ্রহে রাখারও ইচ্ছে জাগবে যে কারো।

এসব পুরাকীর্তি দেখতে ও কিনতে দর্শনার্থীদের আগ্রহও বেশ বলে জানিয়েছেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের রেফারেন্স সহকারী ফারুক আহমেদ।

তিনি বলেন, মানুষজন আসছেন, দেখছেন। তারা জানতে চাচ্ছেন এসব ছবি ও ঐতিহাসিক স্থাপনা সম্পর্কে। আমরাও চেষ্টা করছি সাধ্য অনুযায়ী তাদের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে। গত কয়েক দিন ধরে এ স্টলে দর্শনার্থীদের ভিড় ব্যাপক।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্টলটিতে বড় বড় ফ্রেমে বাঁধা বাংলার ঐতিহাসিক সব পুরাকীর্তির ছবি সাঁটানো। দূর থেকে সেগুলোতেই সবার নজর পড়ে খুব সহজে। মোগল আমল থেকে শুরু করে এর আগে ও পরে ইংরেজ শাসকদের আমলের বিভিন্ন স্থাপনার নমুনা এতে স্থান পেয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের স্বীকৃত দেশের ৪৫২টি পুরাকীর্তির বেশিরভাগই এখানে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। বড়-ছোট পোস্টার, সিরামিকসের গ্লাসে, কাঠে খোদাই করা, ভিউ কার্ড, বই এখানে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে।

যে কেউ পছন্দের নমুনা সংগ্রহে রাখতে পারবেন নামমাত্র মূল্যের বিনিময়ে। পোস্টার ২০ টাকা, ভিউ কার্ড ৪৫ টাকা, কাঠে খোদাই করা নমুনা তিন হাজার টাকা, মাটির তৈরি নমুনা ১৫০ টাকা এবং সিরামিকসের গ্লাস ১৫০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দর্শনার্থীরা ওসব স্থাপনা সম্পর্কিত বিভিন্ন বই সংগ্রহ করছেন স্টলটি থেকে। এগুলো বাংলাদেশের পর্যটন স্পট সম্পর্কেও ধারণা পেতে সহযোগিতা করছে দর্শনার্থীদের।

সন্তানকে নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের স্টলে এসেছেন রাজধানীর পান্থপথের বাসিন্দা সামিনা আক্তার। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া ছেলে হাবীব ওয়াহিদকে স্টলে থাকা নমুনাগুলো সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে ৩০টি ভিউ কার্ড সম্বলিত একটি বান্ডিল ৪৫ টাকা দাম দিয়ে কিনে নেন।

জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘ছেলে এগুলো দেখে আমাদের ঐতিহাসিক স্থাপনা সম্পর্কে জানবে। দূর থেকে ছবিগুলো দেখেই এখানে এসেছি। আশা করছি সে উপকৃত হবে।’

এমএইচ/এএসএস/জেডএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :