নিম্নমানের শত বইয়ের চেয়ে একটি ভালো বই-ই যথেষ্ট

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫৮ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

হাবীবুল্লাহ সিরাজী। কবি ও অনুবাদক। মহাপরিচালক, বাংলা একাডেমি। মহাপরিচালকের দায়িত্ব নিয়ে বইমেলার নকশায় বিশেষ পরিবর্তনও এনেছেন। পরিধি বাড়িয়েছেন মেলা প্রাঙ্গণের।

বইমেলা, সাহিত্যমান, বাংলা একাডেমির প্রসঙ্গ নিয়ে মুখোমুখি হন জাগো নিউজ’র। বাংলা সাহিত্যের মান বাড়াতে লেখক-প্রকাশক-পাঠককে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। চলতি বছরই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে উল্লেখ করেন। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে প্রথমটি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু।

জাগো নিউজ : দীর্ঘ পথপরিক্রমার মধ্য দিয়ে অমর একুশে বইমেলা আয়োজনের এ ব্যাপকতা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মেলা। বইমেলা আয়োজনের সার্থকতা নিয়ে এখন কী বলা যায়?

হাবীবুল্লাহ সিরাজী : আসলে বইমেলা কোথায় যাবে বা যাওয়ার কথা তা কিন্তু পরিষ্কার নয়। এ রকম একটি আয়োজনের সার্থকতা নির্দিষ্ট মাপকাঠিতে নিরূপণ করাও যায় না।

মানুষ বই কিনতে আগ্রহী। বই বেচা-কেনার একটি উপযুক্ত পরিবেশ দরকার। বাংলা একাডেমি চত্বরে লেখক-প্রকাশক-পাঠকরা মিলে তেমনই এক পরিবেশ সৃষ্টি করে বইমেলার আয়োজন করেন।

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলা একাডেমি চত্বর গড়িয়ে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল জায়গা নিয়ে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত মেলার আগ মুহূর্তে বাংলা একাডেমির দায়িত্ব পেয়েছি। সেবার মেলা আয়োজনের সময় স্বল্পতা ছিল। এবার মেলার পূর্ণতা আনতে যথেষ্ট প্রয়াস চালানো হয়েছে, যাতে আমরা অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারি। পাঠক-লেখক-প্রকাশকরা সন্তোষ প্রকাশ করলেই আমাদের এই আয়োজনের সার্থকতা বলে মনে করি।

habibullah-sirazi

জাগো নিউজ : শিল্প-সাহিত্যের বিকাশের স্বার্থেই এই মেলার আয়োজন। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর এমন উদ্দেশ্য সামনে রেখেই বইমেলার যাত্রা। একাধারে পাঠকও তৈরি করবে, লেখকও তৈরি করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। একই সঙ্গে বিশ্বদরবারে বাংলা ভাষা-সাহিত্যের প্রকাশও ঘটবে…

হাবীবুল্লাহ সিরাজী : বইমেলা আসলে আর দশটি মেলার সঙ্গে তুলনা করা যায় না। বাণিজ্যমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। তার সঙ্গে বইমেলার তুলনা চলে না।

আবার অমর একুশে বইমেলা বিশ্বের আর দশটি বইমেলার সঙ্গে তুলনীয় নয়। এটি একেবারেই আমাদের নিজস্ব সত্তা ধারণ করে। একুশের চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশের লেখকদের বই এখানে প্রকাশিত হয়। আন্তর্জাতিক মেলার পরিসরে এটি নয়। বিদেশি লেখকের বই এখানে প্রকাশিত হয় না। আবার বিদেশি কোনো স্টলও নেই। তার মানে, আয়োজনের উদ্দেশ্য এখানেই প্রকাশিত।

তবে এই মেলা উপলক্ষে আমাদের যে ধারণা, তাতে বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক বইমেলা আয়োজনের দাবি রাখে। আমরাও প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক বইমেলা এবার-ই অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা একাডেমির চত্বরে এটির আয়োজন চলছে। আগামী ২২ নভেম্বর থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা শুরু হবে। সাতদিনব্যাপী ওই মেলা-কে কেন্দ্র করে বিদেশি লেখক, বইয়ের সঙ্গে আমরা বিশেষ পরিচিতি পাব। সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, আলোচনাসভাও থাকবে। মূলত অমর একুশে বইমেলা থেকেই এই অনুপ্রেরণা।

জাগো নিউজ : বইমেলায় বাংলা একাডেমির সম্পৃক্ততা নিয়ে কী বলবেন?

হাবীবুল্লাহ সিরাজী : বইমেলা আয়োজন বাংলা একাডেমির কাজ নয়। এটি লেখক-প্রকাশকদের সংগঠন বা জাতীয় গ্রন্থাগারের আয়োজনের কথা। তারা সফলভাবে করতে পারেনি। সময়ের বাস্তবতায় আশির দশকে বাংলা একাডেমি বইমেলার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাছে নেয়। সময়ের প্রয়োজনেই এটি করতে হয়েছে।

habibullah-sirazi

বইমেলা-কে কেন্দ্র করেই বাংলা ভাষা-সাহিত্যের প্রসার ঘটাতে কাজ করে যাচ্ছে বাংলা একাডেমি। আমরা বই অনুবাদে গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ অনুবাদ না করলে বিশ্বের কাছে বাংলা সাহিত্যের মান দাঁড়াবে না। বিশ্বমানের সাহিত্য রচনায় এখনও ঘাটতি আছে।

জাগো নিউজ : সাহিত্য রচনায় ঘাটতির কথা বললেন। অথচ, বইমেলা এই ঘাটতি পূরণে কাজ করার কথা। এর দায় আসলে কার?

হাবীবুল্লাহ সিরাজী : এর দায় সবার। লেখক, প্রকাশকদের আরও সচেষ্ট হওয়ার তাগিদ রাখে। তবে সময় ধরে আসলে সাহিত্যমান নির্ধারণ বা মূল্যায়নের জো থাকে না। সাহিত্যের বিকাশ একেক সময় একেকভাবে বিস্তার ঘটে। হয়তো কোনো দশকে অনেক ভালো লেখকের আগমন ঘটে। তারা ভালো সাহিত্য ফলাতে থাকেন। আবার কোনো কোনো সময় একেবারেই লেখকশূন্য হয়ে পড়ে। অর্থাৎ ভালো লেখার খুবই অভাব দেখা দেয়।

সাহিত্য আসলে মননের বিষয়। সময় বদলে যাচ্ছে বলেই ভালো সাহিত্য রচনা হবে, এটি মনে করার কোনো কারণ নেই। তবে বদলে যাওয়ার সময়ই সাহিত্যমান নির্ণয়ে ভূমিকা রাখতে পারে।

সাহিত্যচর্চা অনেকগুলো প্রবাহের মধ্য দিয়ে একটি রূপে আসে। লেখক, প্রকাশক, পাঠকের রুচিশিলতার ওপর এই রূপ নির্মিত হয়। এ কারণে আমরা আশা রাখি এই তিন পক্ষের ওপরই। তারা ভালো কিছু উপহার দিলে বাংলা সাহিত্য বিশ্বদরবারে আরও সমুজ্জ্বল হবে বলে বিশ্বাস করি।

এএসএস/এমএআর/জেআইএম

আন্তর্জাতিক বইমেলা এবার-ই অনুষ্ঠিত হবে। আমরাও প্রস্তুত। বাংলা একাডেমি চত্বরে এটির আয়োজন চলছে

লেখক, প্রকাশক, পাঠক- এই তিন পক্ষ ভালো কিছু উপহার দিলেই বাংলা সাহিত্য বিশ্বদরবারে আরও সমুজ্জ্বল হবে

সাহিত্য আসলে মননের বিষয়। সময় বদলে যাচ্ছে বলেই ভালো সাহিত্য রচনা হবে, এটি মনে করার কোনো কারণ নেই

অনুবাদ না করলে বিশ্বের কাছে বাংলা সাহিত্যের মান দাঁড়াবে না। বিশ্বমানের সাহিত্য রচনায় এখনও ঘাটতি আছে

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]