‘পাঠকের হাতে পৌঁছে দেয়ার কৌশল জানা থাকতে হবে’

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৫১ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

নাজমুল হুদা রতন ‘সাহস পাবলিকেশন্স’ কর্ণধার। ভালো মানের বই প্রকাশ করে এরই মধ্যে ‘সাহস পাবলিকেশন্স’ পাঠকের ভালোবাসা লাভ করছে। বইমেলা ও প্রকাশনার বিভিন্ন প্রসঙ্গে জাগো নিউজের মুখোমুখি হয়েছেন প্রকাশক নাজমুল হুদা রতন

জাগো নিউজ: বইমেলার এবারের পরিসর অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কী অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও বাড়িছে বইমেলা র্কতৃপক্ষ?
নাজমুল হুদা রতন: হুম এবার বইমেলার পরিসর অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমার জানামতে এবারের বইমেলা উদ্যানের প্রায় সাত লাখ বিশ হাজার বর্গফুট এলাকা নিয়ে স্থাপিত হয়েছে। মেলা যে শুধু সাইজে বড় হয়েছে তা কেবল নয়, এই প্রথমবারের মতো বইমেলার ডিজাইন অতীতের ‘পাজল’ ভেঙে বেরিয়ে এসেছে। মেলার স্টল বিন্যাসে মুন্সিয়ানা দেখা গেছে। খুব সহজে পাঠক দর্শনার্থীরা মেলার যে কোনো একটা পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আরেক প্রান্ত দেখতে পারছেন যা অতীতে সম্ভব হতো না। অতীতে মেলায় ঢুকলেই মনে হতো কোনো ‘গোলকধাঁধাঁয়’ ঢুকেছি, এবার তা মনে হয় না। এটা আমার কাছে প্রত্যাশিতই ছিলো। কারণ আমাদের বর্তমান মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী সাহেব বুয়েটের প্রকৌশলী। ১৯৭১ সনে বুয়েট থেকে পাস করা একজন প্রকৌশলীর মুন্সিয়ানার ছাপ রয়েছে এবারের মেলার ডিজাইনে।

বাড়তি সুযোগ সুবিধার মধ্যে, এবারই প্রথম টিএসসি’র উল্টাদিক থেকে সরাসরি মেলায় ঢোকা যাচ্ছে। চাহিদার কারণে বারবার দাবী জানানোর পরও একটা সিন্ডিকেটের চাপে অতীতে কখনোই এটা করা যায়নি। এছাড়া মেলায় স্থাপিত টয়লেটটি বড় হয়েছে, খাবারের দোকানের সংখ্যা সীমিত ও সঠিক জায়গায় রয়েছে। মেলার প্রতিটি লেনে ইট বিছানো হয়েছে। পর্যাপ্ত পানি ছিটানো হচ্ছে। নিরাপত্তাও ভালো। সবমিলে এবারের বইমেলা পরিসর, স্টলবিন্যাস সহ সবকিছুই সুন্দর, সাজানো, সহজ ও পরিপাটি। দারুণ!

জাগো নিউজ: আপনার দৃষ্টেিত এ বছররে বইমলোয় শুরু থেকে পাঠকের উপস্থিতি কেমন?
নাজমুল হুদা রতন: যদিও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের কারণে মেলা একদিন পর শুরু হয়েছে কিন্তু এবার মেলা প্রথম দিন থেকেই জমে উঠেছে। শুরুর দিন থেকেই প্রচুর পাঠক দর্শনার্থী মেলায় আসছেন। প্রথম শুক্রবার তো উপচে পড়া ভিড় দেখেছি যা অতীতে দেখা যায়নি। সচরাচর দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন।

জাগো নিউজ: আপনার সাহস পাবলিকশেন্স থেকে এ বছর কতগুলো নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে? বইগুলো সর্ম্পকে পাঠকদের কিছু বলুন।
নাজমুল হুদা রতন: সাহস পাবলিকেশন্স থেকে এবার সর্বমোট ২৫টি বই প্রকাশিত হবে। ইতোমধ্যে ১৫টি বই মেলায় চলে এসেছে। বাকিগুলো আগামী ৭দিনের মধ্যে চলে আসবে। এবারের মেলায় আমাদের প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে শিশুতোষ প্রকাশনাই বেশি। এছাড়া প্রবন্ধও রয়েছে বেশকটি। তার মধ্যে হাসান রাউফুন এর বঙ্গবন্ধুর সহজ পাঠ, সাইয়েদ জামিল এর আমার বন্ধু তালগাছ, আরজে নিরব এর শিশুকিশোরদের ভূতের শিক্ষামূলক গল্প ভূতু, প্রফেসার শহীদুজ্জামান এর সমাজ ভাষাবিজ্ঞান, মিজানুর রহমান মিথুন এর স্কুল পালানো ছেলে, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

জাগো নিউজ: প্রকাশনা সংস্থা বিকাশের ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির বইমেলার গুরুত্ব কতখানি?
নাজমুল হুদা রতন: এ বিষয়ে মার্ক দিতে বললে আমি তাতে দেবো ১০০ তে ১০। তেমন কোনো গুরুত্ব নাই। কারণ বইমলো চলে একমাস। বছরের বাকি ১১ মাস প্রকাশকগণ বাংলা একাডেমির উপর নির্ভরশীল থাকে না। বরং আমি মনে করি বাংলা একাডেমি নানাভাবে এই শিল্পের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি, এবারের বইমেলায় সাহস এর অঙ্গসংগঠন, শিশুতোষ প্রকাশনা ‘হুল্লোড়’ এর জন্য আমরা স্টলের আবেদন করেছিলাম। ইতোমধ্যে হুল্লোড় এর অধীনে ১৫টি বই প্রকাশিত হয়েছে।

জাগো নিউজ: আপনার প্রকাশনা সংস্থার বয়স কত? সফলতা ও র্ব্যথতার গল্প শুনতে চাই।
নাজমুল হুদা রতন: আমাদের প্রকাশনার বয়স ১২ বছর। এবারেরটা আমাদের ১০তম বইমেলা। সাফল্য বলতে, গত ৮ বছর ধরে প্রতিবছরই সাহস থেকে একাধিক নবীন লেখকদের জীবনের প্রথম বই প্রকাশিত হচ্ছে। সাহস পাবলিকেশন্স প্রতিশ্রæতিশীল নবীন লেখকদের আশ্রয়স্থল হিসাবে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। প্রকাশনায় আমাদের ব্যর্থতা বলতে, আমরা এখনো জাফর ইকবাল স্যারের মতো বিখ্যাত লেখকদের পাণ্ডলিপি পাইনি। তাছাড়া গত কয়েক বছর যাবত ‘অড পজিশনে ১টি মাত্র স্টল’ হওয়ায় আমাদের প্রকাশিত প্রায় ১৫ লাখ টাকার বই অবিক্রিত রয়ে গেছে।

জাগো নিউজ: প্রকাশ হিসেবে সফল হতে হলে কী কী করনীয় আছে বলে আপনি মনে করনে?
নাজমুল হুদা রতন: শুধু প্রকাশক হিসাবে নয় সকল কিছুতেই সফল হতে হলে পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নাই। তবে প্রকাশক হিসাবে সফলতার জন্য পরিশ্রমের পাশাপাশি ভালো লেখকের ভালো পাণ্ডলিপি পাওয়া জরুরি। আরও নতুন লেখক তৈরি করতে হবে। বই প্রকাশের পর তা পাঠকের হাতে পৌঁছে দেয়ার কৌশল জানা থাকতে হবে।

জাগো নিউজ: প্রকাশকের পাশাপাশি আপনি একজন লেখকও। একজন লেখক যদি প্রকাশকের ভূমিকা পালন করেন তা প্রকাশনা সংস্থাকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে কী?
নাজমুল হুদা রতন: লেখকের উপর ভর করেই তো প্রকাশনা দাঁড়ায়। কথা হচ্ছে লেখক হিসাবে আমি কেমন তা তো নিজে বলতে পারছি না। তবে লেখক যদি প্রকাশক হন তাহলে সুবিধা অনেক। সেক্ষেত্রে বই প্রকাশের জন্য কারো মুখাপেক্ষী থাকতে হয় না। এর খারাপ দিকও আছে। সাধারণভাবে ধরে নেয়া হয় যে, অন্য কেউ প্রকাশ করছে না বলে নিজের বই নিজের প্রকাশ করছে। আমার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, আমি উপলব্ধি করেছি, আমার পাণ্ডলিপি সাহস এর বাইরে অন্য প্রকাশনা সংস্থাও ছাপতে আগ্রহী হয়েছে। আমার, মানে সাহস রতন, এর বই প্রকাশের মাধ্যমে সাহস পাবলিকেশন্স বরং লাভবানই হয়েছে। আমার লেখা সব বই-ই তো একাধিক মুদ্রণ করতে হয়েছে।

এএ/পিআর