অনন্ত উজ্জ্বল অনূদিত ‘চাঁদের আলোয় যাযাবর গান’

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৫৭ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কেন আমরা মঙ্গোলিয়ান কবির কবিতা পড়বো? যারা দূরের এই দেশটি সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানেন না, তাদের কাছে কি এই কবিতাগুলো সংগ্রহে থাকার প্রয়োজন আছে? এই সংকলনে কি মঙ্গোলিয়ার ইতিহাস এবং সেখানকার মানুষের জন্ম-মৃত্যুর হিসাব লেখা আছে? হয়তো নেই এইসবের কোনো কিছুই।

হয়তো সেন্দোর কবিতায় মঙ্গোলিয়ান সংস্কৃতির উল্লেখযোগ্য কোনো বিষয় থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। তবে হাদা সেন্দোর কবিতা পাঠোত্তর বলা যায়। তার কবিতা এমন কিছু প্রকাশ করে, যা একজন পাঠকের প্রত্যাশার চেয়ে অধিক। তার সহজ সরল ভঙির লেখা এমন এক স্বচ্ছ প্রতিচ্ছবি তৈরি করে, যা খুবই সংবেদনশীল এবং তার দেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। হাদা সেন্দো মঙ্গোলিয়াকে হৃদয়ে ধারণ করে প্রাণের শক্তি দিয়ে কবিতা লেখেন। সেই কবিতা বুঝার জন্য আমাদের মঙ্গোলিয়ান ভাষা জানার প্রয়োজন নেই।

হাদা সেন্দোর কবিতা পড়তে পড়তে পাঠক নিজের চোখেই মঙ্গোলিয়া দেখতে পাবেন : মঙ্গোলিয়ান সমভূমি অথবা বিস্তীর্ণ তৃণভ‚ দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসা বাতাস, গোবি মরুভ‚ মির রুক্ষতা, যাযাবরদের ঘর, জীবনযাপন, ঘোড়া এবং ইয়াক। হাদা সেন্দোর কবিতায় ব্যবহৃত কিছু কিছু শব্দ এমন এক হৃৎস্পন্দন তৈরি করে, যা অনেক পাঠকের জীবনে সম্ভবত পূর্বে কখনো ঘটেনি।

মঙ্গোলিয়া অনেকের কাছেই অজানা আকর্ষণীয় একটি অঞ্চল, যার সঙ্গে পৃথিবীর অন্য অঞ্চলের অনেক পার্থক্য এবং তুলনা করা যায়। হাদা সেন্দোর কবিতা পাঠের পূর্বে এই অঞ্চলের মানুষের সম্পর্কে, রীতিনীতি সম্পর্কে আমার ভাঙা ভাঙা একটা ধারণা ছিল অথবা একটা কাল্পনিক ধারণা ছিল। হাদা সেন্দোর কবিতাগুলো পাঠের পরে অজানা অথচ আকর্ষণীয় এই অঞ্চলটি আমার কাছে আর আগের মতো অজানা থাকতে পারে না। হাদা সেন্দোর জন্মভ‚ মির মতোই মঙ্গোলিয়া আমার কাছে হয়ে ওঠে বহুপরিচিত এক জনপদ হিসেবে। শুধু পার্থক্য থাকে এইটুকু। হাদা সেন্দো জন্ম থেকেই এই অঞ্চলের জীবনযাপন ও রীতিনীতির পদ্ধতিগুলো জানেন আর আমরা জেনেছি তার কবিতা পাঠ করে। একথা নিশ্চিন্তে বলা যায়। হাদা সেন্দোর কবিতাগুলো মানব অভিজ্ঞতার অনন্য এক উপহার।

এতকিছুর মধ্যেও হাদা সেন্দোর কবিতায় দেশ নিয়ে দুঃখ এবং ব্যক্তিগত বিরহের কথা আছে। ভাবতে অবাকই লাগে, একজন মানুষ কীভাবে তার দেশকে এত ভালোবাসতে পারে? দুঃখ বিরহের এই অনুভূতিগুলোকে হাদা সেন্দো অতিসহজে শিল্পোত্তীর্ণ ভাষায় প্রকাশ করেছেন। পাঠকমাত্রই সেই বর্ণনায় মুগ্ধ হবেন, হয়তো এখনই অথবা অন্য কোনো সময়। ভবিষ্যতে স্মৃতিরোমন্থনে। একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, হাদা সেন্দোর দুঃখ-বিরহের বর্ণনা তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির প্রকাশ।

আমরা হাদা সেন্দোর কবিতা পড়তে পড়তে দেখতে পাই স্তেপের বিস্তীর্ণ তৃণভূমি ও গোবি মরুভূমির বিশাল অঞ্চল। যাযাবর জীবনের নানান রকমের গল্প-কাহিনি। সেখানে রাতের আকাশে চাঁদের সঙ্গে খেলা করে অগণিত তারা। তারাভরা আকাশের নিচে চাঁদ-তারার আলোর মতো জীবন হয়ে ওঠে ঝলমলে। কবিকে যা গভীরভাবে আঘাত করে, তা হলো সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের মৃত্যু।

‘চাঁদের আলোয় যাযাবর গান’ শিরোনামে মঙ্গোলিয়ান কবি হাদা সেন্দো’র কবিতা অনুবাদ করেছেন অনন্ত উজ্জ্বল। প্রচ্ছদ করেছেন মামুন হোসাইন। স্বদেশ শৈলী এটি প্রকাশ করেছে।

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বইটি পাওয়া যাচ্ছে বাতিঘরে, স্টল নম্বর ৪৪৩-৪৪৫।

মুদ্রিত মূল্য ২০০ টাকা।

এসএইচএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]