কিশোর-তরুণদের বেশি আগ্রহ সায়েন্স ফিকশনে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৯ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

লেখক, দর্শনার্থী ও বই প্রেমীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে উঠেছে বইমেলা। দিন গড়াচ্ছে আর মেলায় ভীড় বাড়ছে বইপ্রেমী পাঠক, লেখক, দর্শনার্থীর। যদিও বইমেলায় বিদায়ী সুর বাজতে শুরু করেছে।

অন্যদের পাশাপাশি বইমেলায় কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের ভিড়ও চোখে পড়ার মত। অন্যদের গল্প-উপন্যাস বা কবিতার বইয়ের প্রতি আগ্রহ থাকলেও ক্ষুদে বইপ্রেমী, কিশোর, তরুণদের একটি বড় অংশের বেশি আগ্রহ সায়েন্স ফিকশন বা বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর বইয়ে।

লেখক ও অভিভাবকরা বলছেন, সায়েন্স ফিকশন বইগুলো মূলত বিজ্ঞানমনস্ক সৃষ্টিশীল চিন্তার জগতকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে কিশোর, তরুণদের। তাই তাদের এসব বইয়ের প্রতি একটু বেশিই আগ্রহ।

বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত বইমেলায় নতুন বই এসেছে চার হাজার ৮৩টি। এরমধ্যে সায়েন্স ফিকশন বা বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর বই এসেছে ৫৬টি।

Book-Fair

জানা গেছে, বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর বইয়ের মধ্যে জাফর ইকবালের লেখা বইগুলো জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। বইমেলায় এবারের সায়েন্স ফিকশন বইগুলোর মধ্যে রয়েছে মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘রহস্যময় ব্লাক হোল’, শফিকুল ইসলামের ‘ট্রাইলিন’, শাহেদ ইকবালের ‘অন্ধ মাকড়শা’, মিন্টু হোসেনের ‘এলিয়েন’, মোশতাক আহমেদের ‘ইডিন’, দীপু মাহমুদের ‘হারাকিরি’, মোশতাক আহমেদের ‘নিঃসঙ্গ গিরি’, সালমান ফরিদের ‘রেবুলু জিরো জিরো ওয়ান’, নাসিম সাহনিকের ‘ল্যাংগুয়েজ হান্টার’, বদরুল আলমের ‘এক্স ওয়ার্ল্ড’ সহ আরও নানা বই।

ধানমন্ডি থেকে মায়ের সঙ্গে বই মেলায় এসেছে হলিক্রস স্কুলের শিক্ষার্থী তাসলিমা ফারজানা স্বপ্নীল। স্বপ্নীল বলেন, অন্যান্য বইয়ের চেয়ে সায়েন্স ফিকশন বই পড়তে ভালো লাগে। জাফর ইকবাল স্যারের সায়েন্স ফিকশন বই সবচেয়ে বেশি পড়ি। আজ বইমেলায় জাফর ইকবাল স্যারের ছাড়াও আরও দুইটি সায়েন্স ফিকশন বই কিনেছি।

অন্যদিকে সায়েন্স ফিকশনের বই পাওয়া যাচ্ছে এমন এক স্টলের বিক্রয়কর্মী হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিবারই মেলায় তরুণ-কিশোরদের কাছে জয়প্রিয়তার তালিকায় থাকে সায়েন্স ফিকশনের বই। আগে থেকে নাম জেনে আসা বইগুলো স্টলে এসে খুঁজছে তারা। কিনেও নিচ্ছে পাশাপাশি অন্যান্য স্টলেও সায়েন্স ফিকশনের কী বই আছে জানতে চাচ্ছে তারা।

Book-Fair-1

এদিকে বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বইমেলায় আসা নতুন বইয়ে মধ্যে গল্পগ্রন্থ ৫২৪, উপন্যাস ৬৪৩, প্রবন্ধগ্রন্থ ২২৩, কাব্যগ্রন্থ ১২৯৭, গবেষণাগ্রন্থ ৯১, ছড়ার বই ৮৩, শিশুতোষ গ্রন্থ ১৭১, জীবনীগ্রন্থ ১১৬, রচনাবলি আট, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ ১৩৮, নাটক ২৩, বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ ৭১, ভ্রমণকাহিনী ৭৩, ইতিহাসগ্রন্থ ৮০, রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ ১২, চিকিৎসা-স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ২৫, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা গ্রন্থ ১১৩, রম্য-ধাঁধা ৩২, ধর্ম বিষয়ক গ্রন্থ ১৬, অনুবাদ সাহিত্য ৪৪, অভিধান ১৪, সায়েন্স ফিকশন ৫৬ এবং অন্যান্য বই এসেছে ২৩০টি।

বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করা এবারের মেলা প্রাঙ্গণে মুজিববর্ষ উদযাপনের ছোঁয়া লেগেছে। নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণ। প্রিয় লেখকসহ মেলায় আসা নতুন বইগুলো দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে দেখছেন। অনেকে পছন্দের বই কিনছেন। আবার অনেকে বন্ধুদের নিয়ে দল বেঁধে মেলায় এসেছেন। ঘুরে দেখছেন বিভিন্ন স্টল। অনেকে আবার বই কিনে লেখকের অটোগ্রাফ নিয়ে তার সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। সব কিছু মিলিয়ে জমে উঠেছে এবারের বইমেলা।

এএস/এএইচ/পিআর