ডিউটির ফাঁকে সন্তানের জন্য বই কেনায় ব্যস্ত পুলিশ বাবা


প্রকাশিত: ০৬:১৮ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
ডিউটির ফাঁকে সন্তানের জন্য বই কেনায় ব্যস্ত পুলিশ বাবা

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার সকাল বেলায় অমর একুশের বইমেলা প্রাঙ্গণ ছিল নানা বয়সী শিশুদের পদচারণায় মুখরিত। বইমেলায় শিশুদের জন্য সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ‘শিশু প্রহর’ ঘোষণা করেছে বাংলা একাডেমি। এ উদ্যোগে সাড়া দিয়ে সকাল থেকেই শিশু ও তাদের অভিভাবকরা বইমেলা প্রাঙ্গণে ছুটে আসেন।

মেলায় অসংখ্য শিশু অভিভাবকদের হাত ধরে ঘুরে ঘুরে বইয়ের মলাট উল্টে দেখছিল, পছন্দ হলে বাবা-মায়ের কাছে কিনে দেয়ার বায়না ধরছিল। তবে শিশু প্রহরে জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের চোখে ধরা পড়ে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। মেলায় প্রতিটি বইয়ের স্টলে অভিভাবক ও সন্তানদের দেখা গেলেও এক পুলিশ সদস্যকে একাকি বিভিন্ন বইয়ের স্টলে ঘুরে শিশুদের বই খুঁজতে ও কিনতে দেখা যায়। অনেকক্ষণ ঘুরে ওই পুলিশ সদস্য চার-পাঁচটি বইও কিনেন।
 
কৌতুহলবশত ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, তার নাম ফুল মামুদ। বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুরে। মিরপুর ১৪ নম্বরে দাঙ্গা পুলিশ বিভাগে এএসআই হিসেবে কর্মরত আছেন। স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে মিরপুরেই থাকেন তিনি। গত কয়েকদিন যাবত বইমেলায় সকালের শিফটে ডিউটি করছেন।

Police

তিনি জানান, ১৪ বছর আগে পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগ দেন। ২০১২ সালে পদোন্নতি পেয়ে নায়েক ও ২০১৬ সালে পদোন্নতি পেয়ে এএসআই হয়েছেন। চাকরি জীবনের অধিকাংশ সময় ডিউটিতে ব্যস্ত থাকায় স্ত্রী ও সন্তানদের ভালো করে সময় দিতে পারেননি। এছাড়া ছেলে-মেয়েদের বইমেলায় নিয়ে আসার ইচ্ছে থাকলেও আনতে পারেননি।

শিশুদের জন্য সময় দিতে না পারার কষ্ট তাকে পীড়া দেয়। ফলে আজ (শুক্রবার) ডিউটিতে থাকলেও ফাঁকে ফাঁকে দুই সন্তানের জন্য বই কিনছেন বলে জানান তিনি।

এমইউ/আরএস/এমএস