দেশের মাটি ছেড়ে কোথাও যাব না বলেছিলেন নূতন চন্দ্র

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৯:১৫ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
শহীদ নূতন চন্দ্র সিংহ।

মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন নূতন চন্দ্র সিংহ। তার জীবনের প্রয়াস ও সংগ্রাম আমাদের জাতিকে সমৃদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার মুহূর্তে নূতন চন্দ্র সিংহকে যখন দেশত্যাগ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন ‘আমি এদেশের মাটি ছেড়ে কোথাও যাব না’।

শুক্রবার বিকেলে অমর একুশে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত ‘শহীদ নূতন চন্দ্র সিংহ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সজিব কুমার ঘোষ। আলোচনায় অংশ নেন মহীবুল আজিজ, প্রফুল্ল চন্দ্র সিংহ এবং রাশেদ রউফ। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান।

প্রাবন্ধিক বলেন, অর্থনৈতিক বিকাশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য কর্মসংস্থান, চিকিৎসা-সেবার বিকাশ ও নারীশিক্ষায় অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহের উদ্যোগ পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ভালোভাবে নিতে পারেনি। স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনের কারণে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি দোসরদের সহায়তায় তাকে নির্মমভাতে হত্যা করে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, শহীদ নূতন চন্দ্র সিংহ স্বশিক্ষিত একজন দেশপ্রেমিক মানুষ ছিলেন। বর্তমানে আমাদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিদেশে পাড়ি জমাবার বা দেশত্যাগ করার একটি প্রবণতা লক্ষণীয়। অথচ মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার মুহূর্তে নূতন চন্দ্র সিংহকে যখন দেশত্যাগ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন ‘আমি এদেশের মাটি ছেড়ে কোথাও যাব না’।

আলোচকরা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন নূতন চন্দ্র সিংহ। তার জীবনের প্রয়াস ও সংগ্রাম আমাদের জাতিকে সমৃদ্ধ করেছে। চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পশ্চাৎপদ মানুষের ভেতর শিক্ষার আলো পৌঁছে দেয়া এবং নারীশিক্ষার বিস্তারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন তিনি। বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ থেকে সরিয়ে দেবার যে অপচেষ্টা চলেছে তা মোকাবেলায় নূতন চন্দ্র সিংহের আদর্শকে আমাদের অনুসরণ করতে হবে।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী, মিতা হক এবং অণিমা রায়। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বিশ্বজিৎ সরকার (তবলা), রিচার্ড কিশোর (গীটার), সুমন রেজা খান (কী-বোর্ড)।

এমএইচ/এএসএস/জেডএ/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :