বাংলাকে আমরা জীবনের সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৯:১২ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৯:২১ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, একুশের পথ বেয়ে একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর বুকে আত্মপ্রকাশ করলেও বাংলাকে আমরা জীবনের সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি।

বুধবার বিকেলে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারির লক্ষ্য কী, অর্জনের পথ কোন দিকে’ শীর্ষক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশের বাঙালি ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে গ্রহণ করেছে। এর ফলেই সর্বাত্মক ভাষাসংগ্রাম এবং পরিণতিতে বাংলা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, একুশে শহীদের শোককে বাঙালি শক্তিতে পরিণত করেছে। ভাষা আন্দোলনের অমর চেতনার পথ ধরে আমরা এগিয়েছি স্বাধীনতার দিকে।

তিনি বলেন, উচ্চআদালতে রায় প্রদানের ক্ষেত্রে এখনও বাংলাকে প্রধান মাধ্যম ভাবা হয় না, তিন ধারার শিক্ষাব্যবস্থায় একটি শ্রেণির কাছে ভাষা হিসেবে বাংলা থাকে উপেক্ষিত। এ অবস্থার মূলে রয়েছে আমাদের রাজনৈতিক সংকট।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত পথপরিক্রমায় আমাদের রাজনীতি বিভাজিত ছিল নানা ধারা-উপধারায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় সেটি আরও স্পষ্ট হয়। অবশ্য মুক্তিযুদ্ধের সময় বামপন্থীদের একটি অংশ স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। একুশ থেকে একাত্তর- এ উত্তাল কালপর্বে বিভাজনের ঊর্ধ্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতাই প্রধান সত্য হয়ে দেখা দিয়েছে।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ফকির সিরাজের পরিচালনায় ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফকির আলমগীর, কল্যাণী ঘোষ, ফিরোজ আহমেদ, আবদুল হালিম খান। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ পাল (তবলা), বিলাস চন্দ্র বণিক (প্যাড), সুমন রেজা খান (কী-বোর্ড) এবং শাহরাজ চৌধুরী।

এমএইচ/জেডএ/আইআই